পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


研 a à সুপ্ৰভা বলিয়াছিল, মরুক পিসশাশুড়ী, জামাই ভাল হইলেই হল। সব তো আর মনের মত হয় না। তা বটে। স্বামীই তো স্ত্রীলোকের সব, স্বামী যদি ভাল হয়, স্বামী যদি ভালবাসে, হাজার দাজ্জাল পিস শাশুড়ী থাক, কি আসিয়া যায় মেয়ে-মানুষের ? মোহিনী ভালবাসে না বকুলকে ? মোটা মোটা চিঠি তো আসে। সপ্তাহে দু’খানা ! ভালবাসাব কথা ছাড়া কি আর লেখে মোহিনী অত সব ? আর কি লিখিবার আছে তাহার ? সুপ্রিভার মেয়েকে বকুল বরের চিঠি পণ্ডিতে দেয়। শ্যাম', সুপ্ৰভা, মন্দা সকলে আগ্রহের সঙ্গে একবার তাকে প্রশ্ন করিয়াছিল, সে হাসিয়া বলিয়াছিল, ভেবো না মামী ভেবো না, যা কবিত্ব করে চিঠিতে, জামাই তোমার ভোডা বনে C5iCE | তব, লুকাইয়া মেয়ের একখানা চিঠিতে শ্যামা চোখ 1লাইতে ৬াডে নাই। টাঙ্গানো লেপের বস্তার কোথায় কোন ফাকে চিঠিখান। আপাতত গোপন করিয়া বকুল স্নান করিতে গিয়াছিল, শ্যামার কি তা নজর এডাইয়াছে! চোরের মত চিঠিখানা পডিয়া শ্যামা তো অবাক । এসব কি লিখিয়াছে মোহিনী ? সব কথার মানেও যে শ্যামা বুঝিতে পারিল না ? কে জানে, হয় তো ভালবাসার চিঠি এমনি হয়। শীতল তো কোনদিন তাকে প্ৰেমপত্র লেখে নাই, সে কি জানে প্রেমপত্রের ? না জানুক, জামাই যে মেয়েকে পছন্দ করিয়াছে তাই শ্যামার ঢের। একটি শুধু ভাবনা তাহার আছে। বকুল তো পছন্দ করিয়াছে মোহিনীকে ? কে জানে কি পোড়া মন তাহার, ঢেকিঘরে সেই যে বকুল আর শঙ্করকে সে একসঙ্গে দেখিয়াছিল, বার বার সে কথা তাহার মনে পড়িয়া যায় । বকুলের সে রাঙ্গা মুখ আর ছল ছল চোখ সর্বদা চোখের 5ांCन उदशि ठन् । পুজার সময় বকুলকে নেওয়ার কথা ছিল। পূজার ছুটির সঙ্গে আরও কয়েকদিনের ছুটি লইয়া মোহিনী ষষ্ঠীর দিন বনগা আসিল । বিধানের কলেজ অনেক আগে বন্ধ হইয়াছিল, কিন্তু সে শঙ্করের সঙ্গে কাশী গিয়াছে। শঙ্করের কে এক আত্মীয় থাকেন কাশীতে, সেখানে পূজা কাটাইয়া বিধান বাড়ী আসিবে। মোহিনী থাকিতে চায় না। অষ্টমীর দিনই বকুলকে লইয়া বাড়ি যাইবে বলে। সকলে যত বলে, তাকি হয় ? এসেছি, পূজোর কদিন থাকবে না ?-লাজুক মোহিনী ততই সলজ্জভাবে একটু হাসিয়া বলে, না, তার যাওয়াই চাই। কেন, যাওয়াই চাই কেন ? সকলে জিজ্ঞাসা করে। পনেরদিনের ছুটি তো নিয়েছ, দুদিন এখানে থেকে গেলে ছুটি তো তোমার ফুরিয়ে যাবে না ? শেষে মোহিনী স্বীকার করে, এটা তার ইচ্ছা অনিচ্ছার GS ব্যাপার নয়, পিসীমার হুকুম অষ্টমীর দিন রওনা হওয়াই फांद्दे । সুপ্ৰভা অসন্তুষ্ট হইয়া বলে, এ কি রকম হুকুম বাছা তোমার পিসীর ? বেয়াই বর্তমানে পিসীই বা হুকুম দেবার কে ? বেয়াইকে টেলিগ্ৰাম কবে আমরা অনুমতি আনিয়ে নিচ্ছি, লক্ষ্মীপূজো পৰ্যন্ত তুমি থাকবে এখানে। মোহিনী ভয় পাইয়া বলে টেলিগ্রাম যদি করতে হয়, পিসীকে করুন। কিন্তু তাতে কিছু লাভ হবে না, অনুমতি পিসী দেবে না, মাঝ থেকে শুধু চটবে। কেহ আর কিছু বলে না, মনে মনে সকলে অসন্তুষ্ট হইয়া থাকে। ববিতে পারিয়া মোহিনী বড় অস্বস্মি বোধ করে। সুপ্রভার মেয়েকে সে বুঝাইবার চেষ্টা করে যে, এ ব্যাপাবে তার কোন দোষ নাই, পিসী তিনখানা চিঠিতে লিখিয়াছে অষ্টমীর দিন সে যেন অবশ্য অবশ্য রওনা হয়, কোন কারণে যেন অন্যথা না ঘটে, কথা না শুনিলে পিসী বড় রাগ করে। সুপ্রভার মেয়ে শুনিষ বলে, বোঝে তো ভাই, আসার মত আসা এই তো তোমার প্রথম, দুদিন না থাকলে কেমন লাগে আমাদের ? মোহিনী কয়েক ঘণ্টা ভাবে, তারপর সুপ্রভার মেয়েকে ডাকিয়া বলে, আচ্ছা দশমী পর্যন্ত থাকব । শুনিয়া শ্যামা আসিয়া বলে, থাকলে পিসী রাগ করবে: বলছিলে ? গিয়ে বুঝিয়ে বলব’খন -মোহিনী বলে । শ্যামা। তবু ইতস্ততঃ করে। জোর করে ধরে রেখেছি বলে পিসী তো শেষে-? মনটা শ্যামার খােত খুত করে। কি যে জবরদস্তি সকলের ! যাইতে দিলেই হইত। অষ্টমীর দিন। তার মেয়ে-জামাই, পিসীর নাম শুনিয়া সে চুপ করিয়া গেল, সকলের এত মাথাব্যথা কেন ? ওরা কি যাইবে পিসীর রাগের ফল ভোগ করিতে ? ভুগিবে তার মেয়ে। সুপ্রভার মেয়ে একসময় তাহাকে একটা খবর দিয়া যায়। বলে, জানি মামী, জামাই তোমার তার পাঠালে পিসীর কাছে। কি লিখেছে জানি, এখানে এক গণৎকার বলেছে পূজোর কদিন ওর যাত্রা নিষেধ । শ্যামা নিশ্বাস ফেলিয়া বলে, কি সব কাণ্ড মা, আমার ভাল লাগছে না খুকী, এমন করে কাউকে রাখতে আছে! আমরা রেখেছি নাকি ? জামাই নিজেই তো বললে থাকৰে । তখন শ্যামা হাসিয়া সুপ্রভার মেয়ের চিবুক ধরিয়া বলে, আরেকটি জামাই তো আমার এল না। মা ? সে লক্ষ্মীপূজার পরেই আসিবে, শ্যামা তাই হাসিয়া একথা বলে, ব্যথার সঙ্গে বলিবার প্রয়োজন হয় না । পূজা উপলক্ষে মন্দা সাধারণ ভাবে খাওয়া দাওয়ার ভাল ব্যবস্থা করিয়াছে, শুমা খরচপত্র করিয়া আরও