পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* ο जनिक-यहांदनौ স্বতন্ত্র জগৎ গড়িয়া উঠিতেছে, যেখানে তার ঠাই নাই এতটুকু। মণির বেল ফণীর বেলাও হইবে এমনি। আপন হইয়া কেহ যদি চিরদিন থাকে শ্যামার, থাকিবে ওই অন্ধ শিশুটি, যার নিমীলিত আঁখি দুটির জন্য শ্যামার আঁখি সজল। হইয়া থাকিবে আজীবন। এক বাড়িতে বাস করিলে পরের জীবনের গোপন ও গভীর জটিলতাগুলি, কেহ বলিয়া না দিলেও, ক্রমে ক্রমে সকলেই টের পাইয়া যায়। বিভা ও বনবিহারীর ব্যাপারটা বুঝিতে পারিয়া শ্যামা ও বকুল হাসাহসি করে নিজেদের মধ্যে। বিভার জন্য ভেড়া বনিয়া এখানে পড়িয়া আছে বনবিহারী, একটু চোখের দেখা, একটু গান শোনা, বিভার যদি দয়া হয়। কখনো দুটি কথা বলা এইটুকু সম্বল বনবিহারীর, --মাগো মা, কি অপদার্থ পুরুষ ! না জানিস ভালরকম লেখাপড়া, করিস ক্যানভাসারি, থাকিস পরের বাড়ি দাস হইয়া, তোর একি দুরাশা। সিড়ির নিচে ভাঙ্গা চৌকীতে যার বাস তার কেন আকাশের চাদি ধরার সাধা ? বনবিহারীর পাগলামি বিশেষ অস্পষ্ট নয়, সকলেই জানে : সে নিজেই শুধু তা জানে না, ভাবে গোপন কথাটি তার গোপন হইয়াই আছে, ছড়াইয়া পড়ে নাই বাহিরে। টের x^াওয়া অবশ্য কারো উচিত হয় নাই, কারণ বনবিহারী কিছুই করে না প্রেমিকের মত, বিভা সিড়ি দিয়া নামিলে শুধু চাহিয়া থাকে, বিভা গান ধরিলে যদি আশেপাশে কেহ না থাকে। তবেই সে সিড়ি দিয়া গুটি গুটি উপরে উঠিয়া দাড়াইয়া থাকে, আর যা কিছু সে করে সব চুরি করিয়া, কারো তা দেখিবার কথা নয়। ক্যানভাস করিতে বাহির হইয়া বিভার স্কুলের কাছাকাছি কোথাও সে রোজই দাড়াইয়া থাকে ছুটির সময়, কোনদিন সাহস করিয়া সামনে গিয়া বলে, ছুটি হয়ে গেল আপনার ?-কোনদিন দূর হইতেই সরিয়া ড়ে। এইটুকু যে সকলে জানিয়া ফেলিয়াছে টের পাইলো লজ্জায় বনবিহারী মরিয়া যাইবে । তারপর বিভার কাজ করিয়া দিতেও সে ভালবাসে বটে। লেণ্ডিতে কাপড় দিয়া লইয়া আসে, ফর্দ মাফিক মার্কেট হইতে জিনিসপত্র কিনিয়া আনে, যে দুটি ছোট ছোট মেয়ে সকালবেলা গান শিখি৩ে আসে বিভার কাছে, দরকার হইলে তাদের বাড়ি পৌছাইয়া দেয়। এখন, এসব ছোটখাট উপকার কে না। কার করে জগতে ? বাড়ির কাজও তো সে কম করে না । ৰিভার দুটি একটি কাজ করিয়া দেওয়ার মধ্যে তার গোপন মনের প্ৰতিচ্ছবি যে সকলে দেখিয়া ফেলিবে কেমন করিয়া সেটুকু অনুমান করিবে বনবিহারী ? বিভার যে ফটোখানা সে চুরি করিয়াছে সেখানা সে লুকাইয়া রাখিয়াছে ক্যানভাসিংএ যাওয়ার সুটকেশটির মধ্যে আর পুরানো ব্লাউজটি রাখিয়াছে তার ট্রাঙ্কে তালাচাবি দিয়া। চুপি চুপি লুকাইয়া এগুলি সকলে যে আবিষ্কার করিয়াছে তাই বা সে জানিবে কিরূপে ? বিভা বিব্রত হইয়া থাকে। বনবিহারী এমন নিরীহ, যত স্পষ্টই হোক এমন মুক ও নিক্রিয় তার প্ৰেম, তার বিরুদ্ধে নালিশ খাড়া করিবার তুচ্ছতম প্রমাণটিরও এমন অভাব যে এ বিষয়ে সকলের যেমন তারও তেমনি কিছু বলিবার অথবা করিবার উপায় নাই। মনে মনে সে কখনো রাগে কখনো বোধ করে মমতা, সিড়ি দিয়া নামার সময় কোনদিন তাকায় ক্রুদ্ধ ভৎসনার চোখে কোন দিন দুটি একটি স্নিগ্ধ কথা বলে। ভাল যে লাগে না একেবারে তা নয়। একটা কুকুরও কুকুরের মত পোষ মানিলে মানুষের তাতে কত গর্ব কত আনন্দ, এতো একটা মানুষ। অথচ এরকম পুজা গ্ৰহণ করিবার উপায় না। থাকিলে কি বিশ্ৰীই যে লাগে মানুষের, মনে যার একফোঁটা भाभांशों था । বকুলের সঙ্গে হাসহাসি করে বটে। মনে শ্যামা কিন্তু ব্যথা পায়। শক্ত সমর্থ যুবক, একি ব্যাধি তার মনের। মেরুদণ্ডটা পৰ্যন্ত যে ওর গলিয়া গেল, সুযোগ পাইয়া কি ব্যবহারটাই বাড়ির লোকে করে ওর সঙ্গে, নিজের মনুষ্যত্ব যে বিসর্জন দিয়াছে কে তাকে মানুষ জ্ঞান করিবে, দোষ কারো নাই। আচ্ছা, শামুর জন্য বিধানও যদি আমনি হইয়া যায় ? অমনি উন্মাদ ? ও ভগবান, শ্যামা। তবে নিজেই পাগল হইয়া যাইযে। অনেক ভাবিয়া শ্যামা শেষে একদিন বকুলকে বলে, শোন খুকী বলি, দ্ব্যাখ, শামুকে যদি খোকার পছন্দ হয়ে থাকে, ওর সঙ্গেই না হয় দিই খোকার বিয়ে ? স্বঘর তো, দোষ কি । বকুল স্তম্ভিত হইয়া যায়, বলে, ক্ষেপে ছ। নাকি তুমি মা, কি বলছি তার ঠিক ঠিকানা নেই, ওই মেয়ের সঙ্গে তুমি বিয়ে দিতে চাও দাদার। শামু ভাল নয় মা-সায়তানের একশেষ । qमन कथा भcम७ ॐtछे नि8 न। কি হইবে। তবে ? একদিন শ্যামুনা আসিলে বিধান যে উসখুসি করিতে থাকে। শামুর হাসির হিল্লোলে সংসার যে শ্যামার ভাসিয়া যাইতে বসিয়াছে ! ভগবান মুখ তুলিলেন। অনেক দুঃখ শ্যামা পাইয়াছে, আর কি তিনি তাকে কষ্ট দিতে পারেন। একদিন বিধান বলিল, শঙ্করের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম মা, আমাদের বাড়িটা দেখে আসতে ইচ্ছে হ’ল, গিয়ে দেখি ভাড়ার নোটিশ বলছে। যাবে ও বাড়িতে ? আমাদের বাড়ি ! আজিও সে-বাড়ির কথা বলিতে ইহার বলে আমাদের বাড়ি । শ্যামা সাগ্রহে বলিল, সত্যি খোকা ?-যাব, চল সামনের মাসেই আমরা চলে যাই, পয়লা তারিখে। সামনের মাসে পয়লা তারিখে ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করিয়া তাহারা বাড়ি বদলাইয়া ফেলিল। বিধান ছুটি লইল একদিনের । সকালে এক গিয়া জিনিষপত্র রাখিয়া আসিতে ৰেলা তার বারোটা বাজিয়া গেল। শামু আর বিভা দুজনেই তখন খুলে গিয়াছে, বাঢ়িওয়ালার ছেলেরা গিয়াছে আ িস,