পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মানিক-গ্ৰন্থাবলী পড়িয়াছে। দোতলা একতলার ব্যবধান কি ফাকি দিতে পারে শ্যামাকে - কতবার উঠিয়া আসিয়া সে উকি দিয়া গিয়াছে মণি তার কি জানে । একটু চা বরঞ্চ তোকে করে দি চুপি চুটি, খেয়ে চাঙ্গা হয়ে পড়তে সুরু করা। ড়ে শুনে মানুষ হয়ে কত ঘুমোবি তখন-ঘুম কি শালিয়ে যাবে। কনকনে হাড় কঁপানো শীত, বকুলকে সঙ্গে করিয়া শীতল যোবার পালাইয়া গিয়াছিল সেবার ছাড়া শীত শ্যামাকে কোনবার এমন কাবু করিতে পারে নাই। উনানে আঁচ দিয়া ভালের ইডিটা মাজিতে বসিয়া হাত ৮ খ্য"মারা যেন অবশ DDDD DBBDLSS SSDDDD DDD BBBDB BB DDB D আবার খারাপ হইয়া যায় ? মাঝে মাঝে এক একদিন তো শীত লাগে না, ঝরঝরে হাল্কা মনে হয়। শরীরটা, আবছা ভোরে ঘুমন্ত-পুরীতে মনের আনন্দ্ৰে কাজে হাত দেয় ? কোনদিন মনে হয়। বয়সটা আজো পাঁচিশের কোঠায় আছে, কোনদিন মনে হয়। একশো বছরের সে বুড়ী ! এমন অদ্ভূত অবস্থা হইল কেন ठांशंद्र ? রোদের সঙ্গে বিধান ওঠে। এখুনি সে ছেলে পড়াইতে বাহির হইয়া যাইবে কিন্তু তাহার হৈ চৈ হাক ডাক নাই। নিঃশব্দে মুখ হাত ধুইয়া জামা গায়ে দেয়, নীরবে গিয়া রান্না ঘরে বসে, শ্যামা যদি বলে, ডালটা হয়ে এল, নামিয়ে রুটি সোঁকে দি ?-সে বলে না দেরি হইয়া যাইবে, আগে রুটি চাই। দুটো একটা কথা সে বলে, বেশির ভাগ সময় চুপ করিয়া ভোরবেলাই শু্যামার শ্ৰান্ত মুখখানার দিকে চাহিয়া থাকে । সে বুঝিতে পারে শ্যামার শরীর ভাল নয়, ভোরে উঠিয়া সংসারের কাজ করিতে শ্যামার কষ্ট হয়, কিন্তু কিছুই সে বলে না। মুখের কথায় যার প্রতিকার নাই সে বিষয়ে কথা বলিতে বিধানের ভাল লাগে না। ভোরে উঠতে বারণ করিলে छमा कि सनिgर ? বিধান চলিয়া গেলে খানিক পরে শু্যামা দোতলায় যায়, এতক্ষণে ছাদে রোদ আসিয়াছে। জানালা খুলিয়া দিতে শীতলের গায়ে রোদ আসিয়া পড়ে। শীতল ক্ষীণকণ্ঠে বলে, কটা বাজল গা ? শ্যামা বলে, আটটা বাজে।-শীতলকে শুষ্ঠামা ধরিয়া তোলে, জানালার কাছে বালিশ সাজাইয়া তাহাকে রোদে ঠেস দিয়া বসায়, লেপ দিয়া ঢাকিয়াও দেয়। গলা, পৰ্যন্ত। শরীরটা শীতলের ভাঙ্গিয়া গিয়াছে। দুর্বল পাটি তাহার ক্রমে ক্রমে একেবারে অবশ হইয়া গিয়াছে, আর সারিবে না । দেহের অন্যান্য অঙ্গপ্ৰত্যঙ্গগুলিও দুর্বল হইয়া আসিতেছে, ক্ৰমে ক্রমে তারাও নাকি অবশ হইয়া যাইবে,-যাইবেই। কে জানে সে কতদিনে ? শু্যামা ভাবিবারও চেষ্টা করে না। জীবনের অধিকাংশ পথ সেও তো অতিক্রম করিয়া আসিয়াছে, ভাবিবার বিষয়বস্তু খানিক খানিক বাছিয়া লইবার শক্তি তাহার জন্মিয়াছো-কত অভিজ্ঞতা শুমার, কত জ্ঞান। সধবা থাকিবার জন্য এ বয়সে আর নিরর্থক লড়াই করিতে নাই। এ তে নিয়মের মত অপরিহার্য। আশা যদি থাকিত, শ্যামা কোমর বঁাধিয়া লাগিতা শীতলের পিছনে অবশ্য পাটিকে সবল করিয়া তাহাকে খাড়া করিয়া रिठ । মিছামিছি। হল্লা শু্যামা আর করিতে চায় না। ক্ষমতাও নাই শ্যামার-অর্থহীন উদ্বেগ, ব্যর্থ প্ৰয়াসে ব্যয় করিবার মত জীবনীশক্তি আর কই ? কতকাল পরে সে সুখের মুখ দেখিয়াছে। এবার সংসারের বাধা নিয়মে যতখানি আনন্দ ও শাস্তি তাহার পাওয়ার কথা সে শুধু তাই খুজিবে, যেদিকে দুঃখ ও পীড়ন চোখ বুজিয়া সেদিকটাকে করিবে অস্বীকার। ভাল কথা। শ্যামার এতটুকু প্রার্থনা অননুমোদন করিবে কে ? স্বামীর আগামী মৃত্যুকে অগ্ৰাহ্য করুক, ক্ষমা সে পাইবে সকলের। কিন্তু সন্তানের কথা এত সে ভাবিবে কেন ? বািড়বাপ্টা আসিলে ওদের আড়াল করিবার জন্য আজও সে থাকিবে "কেন উদ্যত হইয়া ? পঙ্গু স্বামীর কাছে বসিয়া খুঁকির অন্ধ চোখ দু'টি দেখিতে দেখিতে কেন সে হিংসা করিবে বকুলের মেয়ের পদ্মাপলাশ আঁখি দু'টিকে ? একি অন্যায় শ্যামার ! জননী হিসাবে খ্যামা তো দেবীর চেয়েও বড়, এত সে মন্দ স্ত্রী কেন ? শ্যামার এ পক্ষপাতিত্ব সমর্থনের যোগ্য নয়।

  • শীতলের অবস্থার জন্য শ্যামার মনে সর্বদা আকুল বেদন না থাকাটা হয়ত দোষের, তবে সেবাযত্বে শীতলকে সে খুব আরামে রাখে, শীতলের কাছে থাকিবার

MTS LE KD SLLY YB DD SEBKKE L শীতল একটু শান্তি পায়। আদর্শ পত্নীর মত স্বামীর অসুখে শ্যাম যে উতলা নয়, এইটুকু তার সুফল। খুকিকে দুধ দিয়া শ্যামা নিচে যায়। পথ্য আনে শীতলের। ঘটিভরা জল দেয়, গামলা আগাইয়া ধরে, বিছানায় বসিয়া মুখ ধোয় শীতল। মুখ মোছে শ্যামার আঁচলে। কঁচা পাকা দাড়ি গোফে শীতলের মুখ ঢাকিয়া গিয়াছে, ঋষির মত দেখায় তাহাকে । দীর্ঘ তপস্যা যেন সাঙ্গ হইয়াছে, এবার মহামৃত্যুর সমাধি আসিবে। -কখন ? কেহ জানে না । শুষ্ঠামা কাজের ফঁাকে ফঁাকে শতবার উপরে আসে, ডাক্তার বলিয়াছে শেষ মূহুৰ্ত আসিবে হঠাৎ, সে সময়টা কাছে থাকিবার ইচ্ছা শু্যামার। মোহিনী মাঝে মাঝে আসে। ७द्र उांण चांदृष्ट्र बांबl ? बकूण चांद्र श्रुक् ि? চিঠি পান নি মা ?--মোহিনী জিজ্ঞাসা করে। শুমা একগাল হাসিয়া বলে, হঁয়া বাৰা, চিঠি তো পেয়েছি