পাতা:মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচনাসমগ্র প্রথম খণ্ড.djvu/৫৩০

উইকিসংকলন থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


bang labOOKS. in (፩x°)O মানিক রচনাসমগ্র হেবম্বেব আবির্ভাব দুই বন্ধু পছন্দ করে নাই। অথবা হয়ত ঘাটের খেলা তাহাদেব শেষ হইয়াছিল। বৃহৎ বাগানের কোথায় যে তাহাবা লুকাইয়া পডিল হেরম্ব বুঝিতে পারিল না। দুত্তোর, মৰীচিকার পিছনে আব্ব সে ছুটিবে না। খাইয়া উঠিয়া ষ্টেসনে হাজিব হইবে, তারপর প্রথম যে গাড়ী পাইবে তাহাতেই একদম কলিকাতা! কলিকাতায় বন্ধু আছে, কাজ আছে, সিনেমা আছে থিয়েটার আছে। সহজ সরল সুন্দব জীবন সেখানে। সকলেই পাব, হ্রদায়ের তাই অবাধ বিশ্রাম। [ পাণ্ডুলিপি অনুসারে, বর্তমান পরিচ্ছেদের শেষ পৃষ্ঠা। পৃ. ১১২-১১৬ হেব্বস্ব হাত জোড় কৰিল। মনে মনে বলিল । হে ঈশ্বর, হে জগতপতি, হে আদিম কল্পনা অনাদি হৃদয়বহস্য, সৰ্ব্বাঙ্গে। শীতল চন্দন লেপন কবিয সে আগ্নেয়গিরি শীতল হইতে চায়, তাহার ধ্বংসেব তুমি সীমা রাখিও না। তোমার আকাশে যেমন কবিয়া সূর্য্যোণ চেযে বৃহৎ তাবকা নৈসৰ্গিক বিপৰ্যয়ে উল্কাবৃষ্টির মধ্যে নিভিয়া যায়, যেমন করিযা তোমাব ধূমকেতু আসিয়া চলিয়া যায়, আমার সমাপ্তিতে তুমি তেমনি বিপুলতা দান কব। মৃত্যুকে আজীবন আস্বাদ করিতে কবি৩ে আমি যেন মবি৩ে পাবি। হেবম্বেব চোখ দিয়া জল পড়িতে লাগিল ; মন কিন্তু খানিক হাল্কা হইয়াছে। কাব্য উপরে যেন দাবুণ অভিমান হইযাছিল, ঈশ্ববোিব কাছে এমন করিয়া প্রার্থনা নিবেদন কবি যা বঁকাদিয়া সে অভিমান অনেকখানি গলিয়া গেল। এখােন আনন্দেব মুখেব দিকে চাহিয। চাহিয়া দৃষ্টি ক্লান্ত কবিয়া ফেলাও বোধ হয় সহিবে। নাভিগন্ধে পাগল হইয়া মো মৃগ ছুটিয়া আসিয়াছিল দিগ বিদিক জ্ঞান হারাইয়া, পুষ্পগন্ধে খানিক বিশ্রাম পাইযা সে অনেকটা সুস্থ হইযাছে: প্রাঙ্গণে নমিযা পাথর বাঁধানো উচু চত্বরে বসিযা নিজেকে হেরম্বেব বড়ই পুবাতন মনে হইতে লাগিল । বহুকাল কে যেন কি দিয়া তাহাকে ব্যবহার করিয়াছে। আনন্দের সঙ্গে ইহার কোন সম্পর্ক আছে কি না! হেল? তাহাঁই ভাবিয়া দেখিতেছিল, সবসী আসিয়া কাছেই বসিল। “এই যে আপনি । “বাঃ, আপনাকেই আমি খুঁজছিলাম।” মিথ্যা বলা হইল নাকি, আনন্দ সামনে নাই বলিয়া ? কিন্তু হঠাৎ সরাসীকে দেখিযা সত্যই হেবম্বোপ মনে। হইয়াছিল। সে বঁাঁচিয়াছে। বিদেশে দুঃখের দিনে পরমাত্মীয়ার দেখাই যেন মিলিয়া গেল। সরাসী বিশেষ খুন্সী হইল না। এবকম খোঁজা সে বুঝিতে পারে না। ‘আমি ছিলাম বুপাইকুড়া, এখানে আমায খুঁজছিলেন কি রকম ?” হেব্বস্ব সবিস্ময়ে বলিল, “বুপাইকুড়ায় ছিলেন তো এখানে এলেন কি কলে ?” সরাসী-অস্ফুর্টস্বরে বলিল, “কথার ভটচায্যি।” একাদশ পরিচ্ছেদ সেখানে বসিয়া কথা বলিতে সবসী রাজী হইল না। তাহার শ্বশুরবাড়ীব সম্পর্কের একটি পরিবলি পুণীতে আসিয়া আছেন, বেীকে এরকম যার তবে সঙ্গে গল্প করিতে দেখিলে তাহাবা কি বলিবেন ? সরাসীর চাকর গাড়ী ঠিক করিয়া খবর দিল। তাহাবা মন্দিরের বাহিরে আসিয়া গাড়ীতে উঠিযা বসিল। সরসী বলিল, ‘তিন দিন হল এসেছি। অনেকদিন পুরী বেডিযে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, ওঁকে বলে কয়ে চলে এলাম। আপনাকে পুরীতে দেখতে পাব ভাবি নি।” কথাটা অবশ্যই মিথ্যা। সরাসীর আবার বেড়ানোবা সখ। তাব যা কিছু সম্পত্তি সমস্তই আগে ভাগে দাম দিয়া ফেলিয়া সে বলে আপশোষে মরিয়া যাইতেছিল--একটা কানাকড়ির জিনিষও বেচারা পায় নাই। কেদারেব চাপরাসি পার্সেল নিতে আসিয়াছিল অবিনাশের ক্টেসনে। অবিনাশ তাহার কাছে হাকিমবাবুর শালার সন্ন্যাসীর দলে ভিড়িয়া পুরী যাওয়ার গল্প বলিতে ছাড়ে নাই। হেরম্ব কলিকাতা গেলে তার একহাজার মুখপোড়া विछि खूफैिठ । ‘বুঝলে চাপরাসি, মাতাজী হলেন সন্ন্যাসী ভৈরবী মানুষ, ওঁদের এতে কোন দোষ হয় না। বলতে কি, সাধনাব জন্য এসব এঁদের দরকারই হয়। কিন্তু বোম্ববাবুর একি কীৰ্ত্তি বলত। ওর দিদিমার বয়সী যে!”