পাতা:মানুষের ধর্ম্ম - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।




মানুষের ধর্ম্ম

দুই

অথর্ব্ববেদ বলেচেন:—

ঋতং সত্যং তপো রাষ্ট্রং শ্রমো ধর্ম্মশ্চ কর্ম্ম চ
ভূতং ভবিষ্যদুচ্ছিষ্টে বীর্য্যং লক্ষ্মীর্বলং বলে।

ঋত সত্য তপস্যা রাষ্ট্র শ্রম ধর্ম্ম কর্ম্ম ভূত ভবিষ্যৎ বীর্য্য সম্পদ বল সমস্তই উচ্ছিষ্টে অর্থাৎ উদ্বৃত্তে আছে। অর্থাৎ মানবধর্ম্ম বলতে আমরা যা বুঝি প্রকৃতির প্রয়োজন সে পেরিয়ে, সে আসচে অতিরিক্ততা থেকে। জীবজগতে মানুষ বাড়তির ভাগ। প্রকৃতির বেড়ার মধ্যে তাকে কুলোলো না। ইতিপূর্ব্বে জীবাণুকোষের সঙ্গে সমগ্র দেহের সম্বন্ধ আলোচনা করেছিলুম। অথর্ব্ববেদের ভাষায় বলা যেতে পারে প্রত্যেক জীবকোষ তার অতিরিক্তের মধ্যে বাস করে। সেই অতিরিক্ততাতেই উৎপন্ন হচ্চে স্বাস্থ্য আনন্দ শক্তি, সেই অতিরিক্ততাকেই অধিকার ক'রে আছে সৌন্দর্য্য, সেই অতিরিক্ততাতেই প্রসারিত ভূত ভবিষ্যৎ। জীবকোষ এই সমগ্র দেহগত