পাতা:মানুষের ধর্ম্ম - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৪২

মানুষের ধর্ম্ম

বিভূতি উপলব্ধি করে না। কিন্তু মানুষ প্রকৃতিনির্দ্দিষ্ট আপন ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্যকে পেরিয়ে যায়; পেরিয়ে গিয়ে যে-আত্মিক সম্পদকে উপলব্ধি করে অথর্ব্ববেদ তাকেই বলেচেন ঋতং সত্যং। এ সমস্তই বিশ্বমানবমনের ভূমিকায়, যারা এ'কে স্বীকার করে তারাই মনুষ্যত্বের পদবীতে এগোতে থাকে। অথর্ব্ববেদ যে সমস্ত গুণের কথা বলেচেন তার সমস্তই মানবগুণ। তার যোগে আমরা যদি আমাদের জীবধর্ম্ম-সীমার অতিরিক্ত সত্তাকে অনুভব করি তবে বলতে হবে সে সত্তা কখনোই অমানব নয় তা মানবব্রহ্ম। আমাদের ঋতে সত্যে তপস্যায় ধর্ম্মে কর্ম্মে সেই বৃহৎ মানবকে আমরা আত্মবিষয়ীকৃত করি। এই কথাটিকেই উপনিষদ আর এক রকম ক'রে বলেচেন—

এষাস্য পরমা গতি রেষাস্য পরমা সম্পদ্‌
এষোঽস্য পরমো লোক এষোঽস্য পরম আনন্দঃ।

এখানে উনি এবং এ, এই দুয়ের কথা। বলচেন, উনি এর পরম গতি, উনি এর পরম সম্পদ, উনি এর পরম আশ্রয়, উনি এর পরম আনন্দ। অর্থাৎ এর পরিপূর্ণতা তাঁর মধ্যে। উৎকর্ষের পথে এ চলেচে সেই বৃহতের দিকে, এর ঐশ্বর্য্য সেইখানেই, এর প্রতিষ্ঠা