পাতা:মিবার-গৌরব-কথা - হেমলতা দেবী.pdf/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কৃষ্ণকুমারী।

৭৩

কন্যা হত্যা করিয়া নিশ্চিন্ত হইবার বাসনা তাঁহার হৃদয়কে অধিকার করিল! কাপুরুষ ভীম সিংহ বাপ্পা বংশোদ্ভব কুলাঙ্গার হইলেও তদীয় আত্মজা কৃষ্ণা রাজপুত কন্যার আদর্শ স্থানীয়া। পিতার হৃদয়ে রাজপুত জাতির বীর্য্যাগ্নি নির্ব্বাপিত হইলেও তাঁহার কন্যার হৃদয়ে সে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত ছিল। যখন কৃষ্ণার হত্যাসাধন, রাণা ভীম সিংহের জীবন এবং রাজ্য রক্ষার একমাত্র উপায় বলিয়া নির্ণিত হইল, তখন এই পৈশাচিক কাণ্ডের অভিনেতা নির্ব্বাচন দুরূহ ব্যাপার হইয়া উঠিল! স্বর্ণপ্রতিমা নিরপরাধ বালিকার কোমল দেহে অস্ত্রাঘাত করিতে কেহই স্বীকৃত হইল না। রাণা দৌলত সিংহ নামে একজন বিশ্বস্ত আত্মীয়কে কৃষ্ণাকে বলি দিবার প্রস্তাব করিলেন। তিনি এই অশ্রুতপূর্ব্ব পৈশাচিক প্রস্তাবের অবতারণা শুনিয়া দুঃখ, ঘৃণা ও রোষে অধীর হইয়া চীৎকার করিয়া বলিয়া উঠিলেন “যে রসনা এই নৃশংস প্রস্তাব করিল, ধিক তাহাকে শতধিক্ মহারাজ! আমি রাজভক্ত বটে, কিন্তু এরূপ পৈশাচিক; কাণ্ডের অভিনয় করিয়া যদি রাজভক্তির পরিচয় দিতে হয়,তবে এমন রাজভক্তি অতল জলে বিসর্জ্জন করিতেছি! যে রসনা এ পাপ বাক্য উচ্চারণ করিয়াছে তাহা শতধা হউক!” একজন