বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মিস্‌ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় (১৯০১).pdf/১০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দারোগার দপ্তর, ১০৯ সংখ্যা।

ইহজীবন পরিত্যাগ করিয়াছেন। তিনি আরও কহিলেন, মহাবিষ প্রুসিক এসিডই তাঁহার উদরস্থ হইয়া ইহজগৎ হইতে তাঁহাকে বিতাড়িত করিয়াছে।

 ডাক্তার সাহেবের কথা শুনিয়া আমাদিগেরও বেশ অনুমান হইল, তিনি যাহা বলিতেছেন, তাহা নিতান্ত অযৌক্তিক নহে। কোন না কোন প্রবল বিষই যে তাঁহার মৃত্যুর কারণ। সে বিষয়ে আর কিছুমাত্র সন্দেহ নাই।

 মনে মনে এইরূপ ভাবিয়া সেই স্থানটী আমরা একবার উত্তমরূপে অনুসন্ধান করিয়া দেখিলাম। যে ঘরে তাঁহার মৃত দেহ পড়িয়াছিল, সেই ঘরে কিছুই দেখিতে পাইলাম না। লাইব্রেরীর ভিতর প্রবেশ করিয়া দেখিলাম, টেবিলের উপর একটী বোতলে কিয়ৎপরিমাণে মদ্য রহিয়াছে ও তাহার সন্নিকটে একটী গ্লাসও আছে। গ্লাসটী হস্তে লইয়া দেখিলাম, উহা হইতে সুরার গন্ধ নির্গত হইতেছে। অনুমানে বুঝিতে পারিলাম, ঐ বোতল হইতে সুরা ঐ গ্লাসে ঢালিয়া তাহা কেহ পান করিয়াছে।

 বৃদ্ধ জুবেয়ারের একটি পরিচারক তাঁহার আদেশ প্রতিপালন করিবার মানসে প্রায় সর্ব্বদাই লাইব্রেরীর বাহিরে অপেক্ষা করিত। কোন কার্য্যের আবশ্যক হইলে জুবেয়ার যেমন তাহাকে ডাকিতেন, অমনি সে লাইব্রেরীর মধ্যে গমন করিয়া প্রভুর আদেশ প্রতিপালন করিত। কিন্তু তাহাকে না ডাকিলে বা বিশেষ কোনরূপ প্রয়োজন না হইলে, তাহার সেই লাইব্রেরীর ভিতর গমন করিবার আদেশ ছিল না। পরিচারকও সেই আদেশ সম্পূর্ণরূপে প্রতিপালন করিত।