জাগরূক হইতে লাগিল। সেই চিন্তায় মনকে আচ্ছন্ন করিব না ভাবিলেও মন কিন্তু তাহাতে সম্মত হইল না, কেবল সেই চিন্তা আনিয়া আপনার অন্তরে প্রবেশ করাইতে লাগিল।
এইরূপে অর্দ্ধ ঘণ্টা কাল অতিবাহিত হইতে না হইতেই, ক্রমে অল্পে অল্পে আমার স্মৃতির দ্বার উন্মোচিত হইতে লাগিল। কিরূপ অবস্থায় লাইব্রেরী, সুরার বোতল এবং সুরার গ্লাসের কথা আমি পূর্ব্বে জানিতে পারিয়াছিলাম, ক্রমে তাহা স্পষ্ট রূপে আমার হৃদয়ে আসিয়া উপনীত হইল। তখন আমার বেশ মনে হইল, কেবল মাত্র দুই এক দিন হইবে, কোন একটী অপরাধীর অনুসন্ধান উপলক্ষে, রাত্রি আন্দাজ নয়টার সময় আমি গড়ের মাঠের এক স্থানে অন্ধকারে আপন শরীর আবৃত করিয়া চুপ করিয়া বসিয়াছিলাম। আমি যে স্থানে বসিয়া ছিলাম, তাহার একটু দূরে এক খানি বেঞ্চ রক্ষিত ছিল। দেখিলাম, একটী সাহেব আর একটী মেম সেই অন্ধকারের ভিতর পদচারণ করিতে করিতে আসিয়া, সেই বেঞ্চের উপর আমাকে পশ্চাৎ করিয়া উপবেশন করিলেন। উহাদিগের মধ্যে ইতিপূর্ব্বে যে কি কথাবার্ত্তা হইয়াছিল, তাহা আমি অবগত নহি, কিন্তু সেই স্থানে উপবেশন করিবার পর সাহেব কহিলেন “আমি কিরূপে জানিব যে, বৃদ্ধ উপরে গিয়া শয়ন করিয়াছেন।”
উত্তরে মেম সাহেব কহিলেন, “রাত্রি ১১টার পর বৃদ্ধ আর লাইব্রেরীতে থাকেন না, প্রায় ১১টার সময় প্রত্যহই তিনি উপরে গিয়া শয়ন করিয়া থাকেন। তবে কোন কোন দিন রাত্রি অধিক হয় বটে, কিন্তু সেরূপ অতি অল্প দিনই হইয়া থাকে।”