বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মিস্‌ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় (১৯০১).pdf/২৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৮
দারোগার দপ্তর, ১০৯ সংখ্যা।

বারও নীচে আসিলেন না। আমরা কি করিতেছি; না করিতেছি উপরে বসিয়াই কেবল তাহার সন্ধান করিতে লাগিলেন।

 মিসের এইরূপ অবস্থা দেখিয়া তাঁহার উপর আমাদের কেমন একরূপ সন্দেহ আসিয়া উপস্থিত হইতে লাগিল। এক বার মনে হইল, মেরি অবিবাহিতা রমণী; কোন দুষ্টমতি প্রণয়ীর সহিত তিনি কি কোনরূপ প্রণয়সূত্রে আবদ্ধ হইয়াছেন? এবং প্রণয়ীর নিমিত্ত তাঁহার কি বিশেষ কোনরূপ অর্থের প্রয়োজন হইয়াছে? সেই সমস্ত অর্থ বৃদ্ধ প্রদান করিতে অসম্মত হওয়ায়, প্রণয়ীর পরামর্শে তিনি কি বৃদ্ধের সমস্ত অর্থ হস্তগত করিবার মনেসে এই ভয়ানক কার্য্যের অবতারণা করিয়াছেন? সামান্য অর্থের আকাঙ্ক্ষায় স্নেহময়ী কন্যা তাহার পূজনীয় পিতাকে এইরূপে হত্যা করিতে বা হত্যার সহায়তা করিতে যে অনায়াসেই প্রস্তুত হইবে, তাহাই বা সহজে বিশ্বাস করি কি প্রকারে? তবে প্রণয়ে মুগ্ধ হইলে সেই প্রণয়ীর সস্তোষ সাধন করিবার মানসে, না হইতে পারে, এমন কোন কার্য্যই নাই।

 আমরা মনে মনে এইরূপ ভাবিতেছি, সেই সময় বৃদ্ধের দেরাজের মধ্যে যে একখানি উইলের ও একখানি পত্রের খসড়া দেখিতে পাইয়াছিলাম, হঠাৎ তাহা মনে আসিল। উহাতে কি লেখা আছে, তাহা জানিবার মানসে পুনরায় সেই দেরাজ খুলিয়া উহা বাহির করিলাম, ও বিশেষ মনোযোগের সহিত উহা পাঠ করিলাম। পত্রখানি পড়িয়া জানিতে পারিলাম, উহা এই কলিকাতা মহানগরীর জনৈক বিখ্যাত ইংরাজ উকিলকে লিখিতেছেন। ঐ পত্রের মর্ম্ম এইরূপ—