বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মিস্‌ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় (১৯০১).pdf/৪২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪২
দারোগার দপ্তর, ১০৯ সংখ্যা।

 দ্বারবান্। তাঁহাকে খুব চিনি। দিবাভাগে প্রায় সর্ব্বদাই তিনি আমার মনিবের বাড়ীতে আসিয়া থাকেন, ও মেম সাহেবের সহিত প্রায় সর্ব্বদাই আমোদ আহ্লাদ করিয়া বেড়ান। তদ্ব্যতীত প্রায় প্রত্যহ রাত্রিতে বৃদ্ধ উপরে গমন করিবার পর আসিয়া থাকেন, ও বৃদ্ধ শয্যা হইতে গাত্রোত্থান করিবার পর চলিয়া যান। কোন কোন দিন আবার প্রত্যূষে গমন না করিয়া দিবাভাগেই সর্ব্বসমক্ষে গমন করিয়া থাকেন। তাঁহাকে আর আমি চিনি না।

 আমি। তিনি কোথায় থাকেন, তাহা তুমি বলিতে পার?

 দ্বারবান্। তাহা আমি জানি না, কিন্তু তাঁহাকে আমি উত্তমরূপে চিনি, ও বাড়ীর সমস্ত লোকেই তাঁহাকে চিনে। আমার মনিবের মৃত্যুর পর হইতে আর তিনি পূর্ব্বের ন্যায় সদা সর্ব্বদা এখানে আসেন না, বা থাকেন না; কেবলমাত্র এক আধবার আসিয়া থাকেন।

 এ পর্য্যন্ত আমাদিগের মনে যে একটু সন্দেহ ছিল, দ্বারবানের কথা শুনিয়া সে সন্দেহ আমাদিগের মন হইতে একটু দূরীভূত হইল। এই উইলই যে বৃদ্ধের মৃত্যুর কারণ, তখন যেন তাহা আমাদিগকে বলিয়া দিল। আরও আমাদিগের মনে বিশেষরূপ ধারণা হইল যে, মেরি নিজে বা অপর কাহার দ্বারা এই কার্য্য সম্পন্ন করাইয়াছেন, তাঁহার নিজের স্বার্থ-সিদ্ধির নিমিত্ত তিনি এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করিয়াছেন।”

 আমরা যে কয়েকজন দেশীয় কর্ম্মচারী এই অনুসন্ধানে নিযুক্ত হইয়াছিলাম, দেখিলাম, তাঁহারা সকলেই ক্রমে আমার মঞ্চের অনুমোদন করিলেন। এখন এই মোকদ্দমার অনুসন্ধান