বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মিস্‌ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় (১৯০১).pdf/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৬
দারোগার দপ্তর, ১০৯ সংখ্যা।

কহিলেন “এরূপ অবস্থায় মেরিকে ও মেরির যিনি প্রিয়বন্ধু তাঁহাকে ধৃত করিয়া তোমরা অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হও নাই কেন?”

 আমাদিগের অপরাপর ঊর্দ্ধতন কর্ম্মচারিগণ এই সম্বন্ধে আমাদিগকে যাহা যাহা বলিয়াছিলেন, তাহা তাঁহাকে কহিলাম, ও এরূপ অবস্থায় আমরা কিরূপে এই অনুসন্ধানে হস্তক্ষেপ করিতে পারি, তাহাও তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম। আমাদিগের কথা শুনিয়া তিনি আমাদিগের উপর একটু বিরক্তি ভাব প্রকাশ করিয়া কহিলেন, “তোমরা ইংরাজ রাজত্বের কর্ম্মচারীর উপযুক্ত নহ, বা ইংরাজ আইনের অর্থ অবগত হইতে পার নাই। আমাদিগের আইনে শাদা ও কালায় প্রভেদ নাই, বড় ও ছোটর মধ্যে কোনরূপ পার্থক্য নাই; আইন মতে যাহাকে পাইব, রাজা হউন বা দরিদ্র হউন, দেশীয় হউন বা বিদেশীয় হউন, শ্বেতাঙ্গ হউন বা কৃষ্ণাঙ্গ হউন, সকলকেই সমান রূপে দেখিব ও সকলের সহিত সমান ভাবে চলিব। তোমাদিগের সাহসে না কুলায়, আমার সহিত আইস। আমি নিজে এখন এই মোকদ্দমার অনুসন্ধান করিতেছি।”

 সাহেবের কথা শুনিয়া আমাদিগের মনে এখন আশার উদয় হইল। ভাবিলাম, এখন বোধ হয়, এই মোকদ্দমার কিনারা হইবে। এই ভাবিয়া আমরা সকলেই সেই ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সর্ব্বতোভাবে সাহায্য করিতে বদ্ধপরিকর হইলাম।

 কর্ম্মচারী সাহেব আর কোন কথা না বলিয়া একবারে উপর উঠিলেন। সেই সময়ে মেম ও তাঁহার প্রণয়াকাঙ্ক্ষী সাহেব সেইস্থানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি একবারেই উভয়কে কহিলেন, “তোমরা এখন প্রকৃত কথা কহিবে কি না? যদি