পাতা:মুর্শিদাবাদের ইতিহাস-প্রথম খণ্ড.djvu/৪৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ষষ্ঠ অধ্যায়। ♥ጫ(U নুলিয়া থাকেন যে, নবাবের নিকট জমীদারগণ সামান্ত কৰ্ম্মচারীর দ্যায় গণ্য হইতেন। তাহারা নবাবের সমক্ষে বহুমূল্য শিবিকাদি ব্যবহার করিতে পাইতেন না, সামান্ত ডুলী বা চৌপালায় তাহাদিগকে আসিতে হইত। যে সমস্ত জমীদার বা আমীন রাজস্বপ্রদানে ক্রটি করিতেন, কারাযন্ত্রণাভোগ তাহাদের নিত্যকৰ্ম্মের মধ্যে গণ্য ছিল। তাহারা পানাহার করিতে পাইতেন না, কেবল জীবনরক্ষার জন্ত যৎসামান্ত আহার্য্যাদি নির্দিষ্ট হইত, তাহাও অভক্ষ্য ও অপেয় দ্রব্যের সহিত মিশ্রিত থাকিত। ইহাই নবাবের সাধারণ ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু জমীদারগণের নিকট হইতে রাজস্ব আদায় করিয়া লওয়ার জন্ত যে সমস্ত লোক নিযুক্ত হইত, তাহাদের অত্যাচারসম্বন্ধে ঐতিহাসিকগণের বিবরণ পাঠ করিলে শরীর কণ্টকিত হইয়া, উঠে। ঐ সমস্ত লোকের মধ্যে নাজির আহম্মদ ও সৈয়দ রেজা খা প্রধান। নাজির আহম্মদ প্রথমতঃ একজন সামান্ত সৈনিক মাত্র ছিল, কিন্তু ক্রমে সে গুই হাজার অশ্বারোহী ও চারি হাজার পদাতির নায়ক হইয়া জমীদার দিগের প্রতি অত্যাচার করিতে আরম্ভ করে। জমীদারগণের মধ্যে বাহারা রাজস্ব প্রদানে ক্রট করিতেন, তাহাদিগকে ধৃত করার জন্ত নাজিরের প্রতি আদেশ প্রদত্ত হইত। নাজির তাহাদিগকে ধৃত করিয়া, কখনও তেকাঠায় পা বাধিয়া ঝুলাইয়া রাখিত, কখনও বা কোড়াপ্রহারে জর্জরিত করিয়া তুলিত। তদ্ভিন্ন গ্রীষ্মকালে রৌদ্রে খাড়া ও শীত কালে নগ্ন গাত্রে শীতল জল প্রক্ষেপ করিয়া আপনার কঠোরতা প্রকাশ করিত, তাহার পর ঐ সমস্ত জমীদার কারাগারে প্রেরিত হইতেন। রেজা খার অত্যাচার আরও ভয়াবহ ছিল । তিনি একটা খাদ খনন করিয়া নানাবিধ দুৰ্গন্ধযুক্ত আবশ্ৰনার দ্বারা তাহাকে পরিপূর্ণ করিয়াছিলেন এবং হিন্দুদিগকে