পাতা:মুর্শিদাবাদ কাহিনী.djvu/২৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
২৬২
২৬২
মুর্শিদাবাদ-কাহিনী

२७२ মুর্শিদাবাদ-কাহিনী ভারতের অন্যান্য স্থানের প্রতি তীক্ষ দৃষ্টিপাত করিতে লাগিলেন। কোম্পানীর স্বহস্তগঠিত বিজয়-মুকুটে বিভূষিত হইয়া, ভাগ্যলক্ষী কতিপয় দেশীয় লোকের প্রতিও অনুগ্রহদৃষ্টি করিলেন । ইহাদের মধ্যে আমাদের আলোচ্য কান্তবাবুও একজন । কাস্তবাবুর সংক্ষিপ্ত পরিচয়প্রদানের সহিত তিনি কিরূপে ভাগ্যলক্ষীর অনুগ্রহ লাভ করিয়াছিলেন, তাহাই দেখাইবার জন্য এই প্রবন্ধের অবতারণা । আমরা ক্রমশঃ তাহাই বিবৃত করিতেছি ! বলা বাহুল্য যে, কাস্তবাবুই কাশীমবাজারের বর্তমান রাজবংশের আদিপুরুষ। র্তাহারই সুকৃতিবলে আজ কাশীমবাজার রাজবংশ বঙ্গদেশে, কেবল বঙ্গদেশে কেন, সমগ্র ভারতবর্ষে পরিচিত । বাঙ্গলায় এমন স্থান নাই, যেখানে দানশীল মহাবানী স্বর্ণময়ী-মহোদয়ার নাম বিঘোষিত না হয় । কি শিক্ষিত, কি অশিক্ষিত সকল প্রকার লোকই মহারানী-মহোদয়ার ও র্তাহার সুযোগ্য উত্তরাধিকারী মহারাজ মনীন্দ্রচন্দ্রের নাম জ্ঞাত আছে । মহারানী-মহোদয়ার ও মহারাজ-মহোদয়ের এই সুনামের কারণ, কান্তবাবুর সৌভাগ্য । সেই কান্তবাবুর পরিচয় প্রদান করিতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করিতেছি । খ্রীস্টীয় সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে কাশীমবাজার বাঙ্গলার মধ্যে একটি বাণিজ্যপ্রধান স্থান বলিয়া বিখ্যাত হয় । তৎকালে ইহাতে ও ইহার নিকটবতী স্থানসমূহে, ভিন্ন ভিন্ন ইউরোপীয় জাতির কুঠ সংস্থাপিত ছিল। ইউরোপীয়দিগের সহিত বাণিজ্যকার্য চালাইবার জন্য, অনেক দেশীয় লোক কাশীমবাজারে অবস্থিতি করিতেন । বঙ্গের ভিন্ন ভিন্ন স্থান হইতে অনেক লোক কাশীমবাজারে আসিয়া বাস করিতে আরম্ভ করে। কাস্তবাবুর পূর্বপুরুষেরাও সেই উদ্দেশ্যে কাশীমবাজারে আপনাদিগের আবাসস্থান স্থাপন করিয়াছিলেন । ইহাদের পূর্বনিবাস বর্ধমান জেলার অন্তর্গত মন্ত্রেম্বরের অধীন রিপীগ্রাম বা সিজন । তথা হইতে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ইহারা কাশীমবাজারের নিকট শ্রীপুর নামক স্থানে আসিয়া বাস করেন। বর্তমান কাশীমবাজার রাজবাটী সেই শ্রীপুরেই অবস্থিত । কান্তবাবুর দুই তিন পুরুষ পূর্ব হইতে, ইহার রেশমের ও সুপারির ব্যবসায় চালাইতেছিলেন । ধনশালী ব্যবসায়ী ন হইলেও ইহার একঘর মধ্যবিত্ত গৃহস্থ ছিলেন ; কখন অন্নবক্সের কষ্ট ভোগ করেন নাই । রাধাকৃষ্ণ নন্দী সুপ্রসিদ্ধ কাস্তবাবুর পিতা । কোন কোন মতে রাধাকৃষ্ণের পিতা সীতারাম এবং কাহারও কাহারও মতে র্তাহার পিতামহ অর্থাৎ সীতারামের পিত৷ কালীনন্দী, প্রথমে কাশীমবাজারে আগমন করেন । রাধাকৃষ্ণ বর্ধমান জেলার কুড়ুম্ব ১ কাশীমবাজার রাজবংশের বংশপত্রিকানুসারে প্রথমে সাঁতারাম ননীর কাশীমবাজার আগমনের কথা উল্লিখিত হয় । সাঁতারামের মাথায় টাক ছিল বলিয়া, তিনি “নেড়া” নামে অভিহিত হইতেন। কিন্তু কিশোরটাদ মিত্রের কাশীমবাজার রাজবংশে (Calcutta Review, 1873 ) কালীননদীরই কাশীমবাজার আগমনের কথা লিখিত আছে। কিশোরীচাদের মতে রাধাকৃষ্ণের পিতা কালীনন্দীর জ্যেষ্ঠপুত্র। সুতরাং ণ্ঠাহারই নাম সীতারাম হইতেছে।