হারের মধ্য হইতে একছড়া লইয়া বিবিয়ার গলায় পরাইয়া দিলেন ও কহিলেন, এই ছড়াটী তোমার জন্য প্রস্তুত হইয়াছে, ইহা তুমি পরিধান কর। আর যে ছড়াটী নমুনার জন্য আনা হইয়াছিল, তাহা আমি এখনই ফেরৎ পাঠাইয়া দিতেছি। এই বলিয়া যিনি নমুনার হার পাঠাইয়া দিয়াছিলেন, তাঁহার নিকট সেই ছড়াটী পাঠাইয়া দিলেন। যাঁহার হার, তাঁহার হোসেন আলির উপর অগাধ বিশ্বাস ছিল, সুতরাং ঐ হার উত্তমরূপে না দেখিয়াই তিনি তাহা রাখিয়া দিলেন।
বিবিয়া তাহার মনের মত নূতন হার পাইয়া মনে মনে অতিশয় সন্তুষ্ট হইলেন, কিন্তু মুখ ফুটিয়া সে কথা হোসেন আলির নিকট প্রকাশ করিলেন না। হোসেন আলিও বিবিয়ার মনের ভাব বেশ বুঝিতে পারিলেন, কিন্তু তিনিও কোন কথা প্রকাশ করিলেন না।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ।
একদিবস রাত্রি দুইটার পর বাজারের ভিতর মহা গোলযোগ উত্থিত হইল।এত দিন পরে চোর ধরা পড়িয়াছে, বলিয়া অনেক পুলিস কর্ম্মচারী সেই দিকে ধাবিত হইলেন।
বড় বাজারের সোনাপটীর একটী বড় দোকানে অনেক সোনা বেচা-কেনা হয়, সুতরাং রাত্রিকালে ঐ দোকানে যে অনেকটাকার সোনা ও নগত টাকা থাকে, সেবিষয়ে কিছুমাত্র সন্দেহ নাই। ঐ দোকানের মধ্যে দুইটী বড় লোহার সিন্ধুক আছে, উহার মধ্যেই ঐ সকল মূল্যবান দ্রব্য ও নগত টাকা রক্ষিত হয়। রাত্রিকালে দোকানে কেহ থাকে না। ঐ লোহার সিন্দুকদ্বয়ের চাবি ও দোকানের চাবি, মালিক দোকান বন্ধ হইলে আপন বাড়ীতে লইয়া যান। রাত্রিকালে দোকানের রক্ষণাবেক্ষণের ভার পুলিস-প্রহরীর উপরই নির্ভর থাকে।
রাত্রিকালে কেবল যে ঐ দোকানের রক্ষণাবেক্ষণের ভার পুলিসের হস্তে অর্পিত থাকে তাহা নতে, ঐ স্থানের প্রায় সমস্ত দোকানের অবস্থাই ঐরূপ। রাত্রিকালে সকলেই আপনাপন বাড়ীতে চলিয়া যায়, পর দিবস প্রাতঃকালে পুনরায় আসিয়া আপনাপন দোকান খুলিয়া বসেন।রাত্রে প্রায় কোন দোকানে কেহ থাকে না।
যে দোকানে আজ চোর ধৃত হইয়াছে, সেই দোকানেও রাত্রিকালে কেহ থাকিতেন না। ঐ দোকানের একজন প্রধান কর্ম্মচারীর কোন আত্মীয় দেশ হইতে সেই দিবস কোন কার্য্যোপলক্ষে কলিকাতায় আগমন করেন, অপর স্থানে তাঁহার থাকিবার স্থান না থাকায় তিনি ঐ দোকানে ঐ কর্ম্মচারীর নিকট গমন করেন। দিবাভাগে সেই হামে জলযোগাদি করিয়। রাত্রে থিয়েটার দেখিবার নিমিত্ত সেই কর্ম্মচারীর সহিত একটী