ছাদের উপরের এইরূপ অবস্থা দেখিয়া বুঝিতে আর বাকী থাকিল না যে, ঐ ছাদ কাটিয়া চোর ঐ দোকানের ভিতর প্রবেশ করিবার বেশ রাস্তা করিয়াছে, কিন্তু উহার ভিতর কেহ প্রবেশ করিয়াছে কি না, তাহা তখন বুঝিতে পারা গেল না।
পুলিস কর্ম্মচারীগণ তখন ঐ দোকান খুলিয়া তাহার ভিতর দেখিবার ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন। আলো আনীত হইল কর্ম্মচারীগণ প্রহরীগণের সহিত প্রস্তুত হইলেন। কারণ, দোকানের ভিতর যদি কেহ থাকে, তাহা হইলে তাহাকে ধরিতে হইবে। এইরূপ বন্দোবস্ত করিয়া দোকানের সেই কর্ম্মচারীর নিকট হইতে চাবি লইয়া যেমন চাবি খুললেন, অমনি তাহার মধ্য হইতে দুই ব্যক্তি বাহির হইবার চেষ্টা করিল, যাঁহারা উহা দিগকে ধরিবার চেষ্টা করিলেন, তাঁহারাই উহাদিগের হস্তস্থিত লৌহ নির্ম্মিত সিঁদ কাটীর দ্বারা বিশেষরূপ আঘাত প্রাপ্ত হইলেন। দুইজন পুলিস কর্ম্মচারী চোরদিগের হস্তে সাংঘাতিকরূপে আহত হইয়াও তাহাদিগকে জাপ্টাইয়া ধরিলেন। তখন সহজেই চোরগণ পুলিস-হস্তে বন্দী হইল।
ইহারা ধৃত হইবার সঙ্গে সঙ্গে চতুর্দ্দিকে এই সংবাদ প্রচারিত হইয়া পড়িল। এত দিবস পরে চোর ধৃত হইয়াছে, ইহা শুনিবা মাত্র নিকটবর্ত্তী লোক সকল সেই রাত্রে ঐ চোরকে দেখিতে আসিল।চোরদ্বয়কে থানায় আনীত হইলে থানার অনেক কর্ম্মচারীই উহাদিগকে চিনিতে পারিলেন, কিন্তু সাঙ্গ করিয়া প্রথমতঃ কেহই কোন কথা বলিতে পারিলেন না, সকলেই বিস্ময়ের সহিত উহাদিগকে দেখিতে লাগিলেন।
চোরেরা ধৃত হইবার পর ঐ দোকানের কর্ম্মচারীগণ দেখিলেন, দোকানের দুইটা লোহার সিন্দুকই উহারা খুলিয়াছে। সিন্দুকের ভিতর যে সকল সোনা রূপার অলঙ্কার ও যা কিছু নগদ টাকা ছিল, সমস্তই বাহির করিয়া দুইটী গাটরি বাঁধিয়াছে। উহা সিন্দুকের নিকটেই রক্ষিত আছে। কোন দ্রব্য দোকানের বাহিরে আনীত হয় নাই। পুলিস কর্ম্মচারীগণ দোকান বন্ধ করিয়া ঐ সমস্ত দ্রব্যাদি ও থানায় লইয়া গেলেন।
সেই সময় সেই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্ম্মচারী ছিলেন একজন ইংরাজ। যে সময় এই চুরির সংবাদ প্রথম থানায় আসে, সেই সময় তিনি থানায় ছিলেন না। সুতরাং তাঁহার অধীনস্থ কর্ম্মচারীগণই সেই পোদ্দারের দোকানে গমন করিয়া ঐ দস্যুদ্বয়কে ধরিয়া আনেন।
উহারা থানায় আনীত হইলে সেই ইংরাজ কর্ম্মচারী উহাদিগকে দর্শন করেন ও উহারা কিরূপে ধৃত হইয়াছে তাহার সমস্ত অবস্থা তাঁহার অধীনস্থ কর্ম্মচারীদিগের মুখে শ্রবণ করেন; কর্ম্মচারীগণের অবস্থা দেখিয়া