একজনকে আমার নিকট এখনই লইয়া আসুন?
ইংরাজ-কর্ম্মচারীর কথা শুনিয়া তখনই সেই ঘর হইতে বহির্গত হইলেন ও যাহাকে হোসেন আলির প্রধান কর্ম্মচারী বলিয়া তিনি সন্দেহ করিতেছিলেন, তাঁহাকে সঙ্গে লইয়া সেই ইংরাজ-কর্ম্মচারীর নিকট উপস্থিত হইলেন।
ইংরাজ-কর্ম্মচারী তাহাকে দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “তোমার নাম কি?”
দস্যু। কাহার নাম?
ইং-ক। তোমার?
দস্যু। আমার নামের কোন স্থিরতা নাই। যাহার মনে যাহা আসে, সে তাহা বলিয়াই আমাকে ডাকে।
ইং-ক। কি বলিয়া ডাকে?
দস্যু। কেহ বলে, আব্দুল; কেহ বলে, সেরালী; কেহ বলে, পিটার; কেহ বলে, হরিয়া, এইরূপ কত নাম বলিব।
ইং-ক। তুমি কোন্ জাতি, মুসলমান, খৃস্টান, না হিন্দু?
দস্যু। আমি মুসলমানও নহি, খৃস্টানও নহি, হিন্দুও নহি।
ইং-ক। তবে তুমি কি?
দস্যু। আমি কিছুই নহি।
ইং-ক। উহা কি কখন হইতে পারে? নিশ্চয়ই কোন না কোন ধর্ম্মাবলম্বী।
দস্যু। যে আমাকে মুসলমান ভাবে,ইং-ক। তাহা হইলে তুমি বলিতে চাহ যে তুমি ঈশ্বর।
দস্যু। আমি কিছুই বলিতে চাহি না, আপনি যাহা ভাবতে চাহেন, তাহা আপনি অনায়াসেই ভাবিতে পারেন।
ইং-ক। সে যাহা হউক, তুমি থাক কোথায়?
দস্যু। আমার থাকিবার কিছুই ঠিকানা নাই।
ইংক। রাত্রিকালে কোথায় শয়ন কর?
দস্যু। ঘাটে, মাঠে, রাস্তায়, যে দিন যেখানে সুবিধা হয়।
ইং-ক। খাও কোথায়?
দস্যু। যেমন আমার থাকিবার ঠিকানা, আহার করিবার ঠিকানা ও সেইরূপ।
ইং-ক। হোসেন আলি তোমার কে?
দস্যু। কোন্ হোসেন আলি?
ইং-ক। মির হোসেন আলি, কলিকাতার একজন বড় কারবারী, তিনি কি তোমার মনিব?
দস্যু। আমি হোসেন আলি নামক কোন ব্যক্তিকে চিনি না। আমি কখন কাহার নিকট চাক্রি করি নাই, আমার আবার মনিব কে? আমিই আমার মনিব।