ইং-ক। আজ তুমি থানায় আসিয়াছ কেন?
দস্যু। আমাকে ধরিয়া আনিয়াছে।
ইং-ক। কেন তোমাকে ধরিয়া আনিয়াছে?
দস্যু। তাহা জানি না। আমি অবিবাহিত, তাই আমার বিবাহের নিমিত্ত যদি আপনারা এখানে আনিয়া থাকেন, তাহা জানি না।
ইং-ক। তাহাই হইবে, তোমার বিবাহেরই বন্দোবস্ত করা যাইবে। এখন বল দেখি, পোদ্দারের দোকানের ভিতর তোমরা কি নিমিত্ত প্রবেশ করিয়াছিলে?
দস্যু। কোন্ পোদ্দারের দোকানে, আমি কোন পোদ্দারের দোকানে কখন ঢুকি নাই।
ইং-ক। তোমার সঙ্গে যে ধরা পড়িয়াছে, তাহার নাম কি?
দস্যু। আমার সহিত কোন ব্যক্তি তো ধৃত হয় নাই?
ইং-ক। তুমি যাহার সহিত এখন একত্রে বসিয়াছিলে, তাহার নাম কি?
দস্যু। আমি উহাকে চিনি না, ও সে কেন ধৃত হইয়াছে, তাহাও আমি জানি না।
দস্যুর কথা শুনিয়া ইংরাজ-কর্ম্মচারী বুঝিতে পারিলেন যে, এ নিতান্ত সামান্য ব্যক্তি নহে। ইহার নিকট হইতে সহজে কোন কথা পাওয়া যাইবে না। আরও বুঝিতে পারিলেন, তাহার সঙ্গীর নিকট হইতেও ঐরূপ উত্তরইংরাজ কর্ম্মচারীর আদেশ তখনই প্রতিপালিত হইল। যাহাকে প্রথম আনা হইয়াছিল, তাহাকে স্থানান্তরিত করা হইল ও তাহার সঙ্গীকে সেইস্থানে আনা হইল।
ইংরাজ-কর্ম্মচারী তাহার আপাদ-মস্তক দশন করিয়া কহিলেন, “তোমার নাম কি?”
সে সেই কথার কোন উত্তর দিল না।
কর্ম্মচারী পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন, হোসেন আলির নিকট তুমি কত দিবস কার্য্য করিতেছ?
এ প্রশ্নেরও কোন উত্তর পাইলেন না। এইরূপে তাহাকে যাহা কিছু জিজ্ঞাসা করা হইল, সে তাহার কোন কথার উত্তর প্রদান করিল না, কেবল মাত্র কর্মচারীদ্বয়কে এক একবার দেখিতে লাগিল।
উহার ভাব দেখিয়া ইংরাজ কর্ম্মচারী আতশয় বিরক্ত হইলেন, এবং তাহাকে ও স্থানান্তরে লইয়া যাইতে কহিলেন।
তাঁহার আদেশ প্রতিপালিত হইল। উহাকেও সেই স্থান হইতে লইয়া গিয়া অপর এক স্থানে রাখা হইল।