বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/১৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
সপ্তম পরিচ্ছেদ।
১৯

আলির বাড়ীতে গিয়া উপস্থিত হইলেন। তাহাদিগকে দেখিবামাত্রই সেই বাড়ীর পার্শ্ববর্ত্তী বাটীর সমস্ত লোকই উহাদিগকে সম্বোধন করিয়া কহিলেন, “আপনাদিগের এরূপ অবস্থা ঘটিয়াছে কেন? আপনারা এমন কি অপরাধ করিয়াছেন যে, পুলিসের হস্তে বন্দী হইয়াছেন?”

 সেই স্থানের যে কোন লোক উহাদিগকে দেখিলেন, সেই ঐরূপ ভাবে উহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলেন। কিন্তু তাহারা কাহারও কথায় কোনরূপ উত্তর দিল না।

 পুলিস কর্ম্মচারিগণ এখন জানিতে পারিলেন যে, তাহারা যা’ অনুমান করিয়াছিলেন, তাহা সত্য। উভয় দস্যুই হোসেন আলির কর্ম্মচারী। তাহাদিগের একজনের নাম, গোলাম হোসেন। ইনি হোসেন আলির সর্ব্বপ্রধান কর্ম্মচারী, কেবল কর্ম্মচারী নহেন, হোসেন আলির সর্ব্বময় কর্ত্তা। অপর ব্যক্তির নাম রহমত। ইনিও হোসেন আলির একজন অতিশয় প্রিয় কর্ম্মচারী। আরও জানিতে পারিলেন, গোলাম হোসেন ও রহমতের ন্যায় আরও দুই তিনজন কর্ম্মচারী হোসেনের আছে। ইহাদিগকেও হোসেন আলি অন্তরের সহিত ভালবাসেন। ইহারা সকলেই হোসেন আলির বাড়ীতে বাস করিয়া থাকেন, আহারাদিও সেই স্থানে হইয়া থাকে। পুলিস কর্ম্মচারিগণ যখন সেইস্থানে উপস্থিত হইলেন, তখন উহাদিগের কেহ সেইস্থানে ছিল না,
তাহারা যে কোথায় গমন করিয়াছে, এবং কখন গমন করিয়াছে; তাহাও কেহ বলিতে পারিলেন না।

 উহাদিগের কাহাকেও না পাইয়া কর্ম্মচারিগণ হোসেন আলির অনুসন্ধান করিলেন, কিন্তু তাঁহাকেও বাড়ীতে দেখিতে পাইলেন না। তিনিও যে কোথায় গমন করিয়াছেন, তাহাও সেই সময় কিছুমাত্র জানিতে পারা গেল না। কেবল এইমাত্র দেখিতে পাওয়া গেল যে, ঐ প্রকাণ্ড বাড়ীতে হোসেন আলির স্ত্রী ও তাঁহার একজন পরিচারিকা ভিন্ন আর কেহই নাই। এরূপ অবস্থায় কর্ম্মচারিগণ অনন্যোপায় হইয়া হোসেন আলির শ্বশুরের নিকট সংবাদ পাঠাইলেন ও তাঁহাকে সেই সময় সেই স্থানে আসিতে অনুরোধ করিলেন। করিমবক্স তাঁহার কন্যার বিপদ শুনিয়া আর কালবিলম্ব করিলেন না, সত্ত্বর সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন।

 বাড়ীতে একেবারে এত পুলিসের আমদানি দেখিয়া, তাঁহার ভয় হইল, তাহার উপর হোসেন আলির প্রধান কর্ম্মচারিদ্বয়কে বন্ধনাবস্থায় দেখিয়া তিনি অতিশয় বিস্মিত হইলেন, কিন্তু কি যে অবস্থা ঘটিয়াছে ও কেনই বা হোসেন আলি ও তাঁহার অপরাপর কর্ম্মচারীগণ গৃহ পরিত্যাগ করিয়া চলিয়া গিয়াছেন, তাহার কোনরূপ কারণ অবগত হইতে না পারিয়া মনে মনে নানারূপ চিন্তা করিতে লাগিলেন।