বিনয়ী ছিলেন। যাঁহার সহিত হোসেন আলির একবার পরিচয় হইত, তিনি সহজে আর তাঁহাকে ভুলিতে পারিতেন না। তিনি যেরূপ মিষ্টভাষী ও বিনয়ী ছিলেন, তেমনি পরোপকার করিতেও পশ্চাদ্পদ হইতেন না; বিপদ গ্রস্তকে সাহায্য করিতে তিনি সর্ব্বদাই প্রস্তুত থাকিতেন। অর্থ সাহায্য হউক বা যে কোন প্রকারেই হউক, সাহায্য প্রাণীকে সাহায্য করিতে তিনি কোনরূপে পয়াষ্মুপ হইতেন না। এদিকে তিনি দাতাও ছিলেন। দরিদ্রদিগকে সর্ব্বদাই তিনি আহারীয় প্রদান করিতেন, মধ্যে মধ্যে বস্ত্রদানেও বিরত হইতেন না। প্রতি শুক্রবারে তাঁহার বাড়ীতে ভিক্ষার্থ যে কত লোক আসিয়া উপস্থিত হইত, তাহা স্থির করা নিতান্ত সহজ নহে; কিন্তু কেহ কখন বিফল মনোরথ হইয়া প্রত্যাগমন করিযাছে, এ কথা শুনিতে পাওয়া যায় নাই।
এইরূপ অল্প দিবসের মধ্যে সেই স্থানে হোসেন আলির নাম প্রচারিত হইয়া পড়িল। নিকটবর্ত্তী স্থানের গরিব দুঃখী সকলেই জানিতে পারিল, যদি কোনরূপে তাহারা বিপদগ্রস্ত হয়, তাহা হইলে হোসেন আলি কর্ত্তৃক তাহারা অনায়াসেই সেই বিপদ হইতে উদ্ধার হইতে পারিবে।
হোসেন আলি যে কেবল দীন দুঃখীদিগকেই সাহায্য করিতেন, তাহা নহে। তাঁহার বাড়ীতে প্রায়ই নৃত্য, গীত, আমোদ-আহ্লাদ হইত, সেই সঙ্গে স্থানীয় ভদ্র মুসলমানগণসকলেই জানিত যে, হোসেন আলি অবিবাহিত। ব্যবসা উপলক্ষে বাল্যকাল হইতেই তিনি তাঁহার দেশ পরিত্যাগ করিয়াছেন, তাহার পর আর তিনি তাঁহার দেশে প্রত্যাগমন করেন নাই; কারণ দেশে তাহার আপন বলিবার কেহই নাই। সুতরাং এ পর্য্যন্ত কেহই তাঁহার বিবাহের উদ্যোগ করেন নাই, নিজেও পাত্রীর সন্ধান করিয়া বিবাহের জন্য চেষ্টা করেন নাই, সুতরাং এ পর্য্যন্ত তাঁহার বিবাহ হয় নাই।
যে স্থানে হোসেন আলি বাস করিতেন, তাহার নিকটবর্ত্তী স্থানে অনেক ভাল ভাল মুসলমান ব্যবসা উপলক্ষে বাস করিতেন। তাঁহাদিগের মধ্যে করিমবক্স নামক একজন ধনাঢ্য মহাজন বাস করিতেন। বাণিজ্যজগতে তাঁহার বিশেষ মান-সম্ভ্রম ও প্রতিপত্তি ছিল। তাঁহার বিবিয়া নাম্নী একটী সুন্দরী অবিবাহিতা কন্যা ছিল। করিমবক্স তাঁহার কন্যাকে সৎপাত্রে অর্পণ করিবার মানসে অনেক চেষ্টা করিয়াছিলেন, কিন্তু মনোমত পাত্র না পাওয়ায় এখনও পর্য্যন্ত তাহার