বিবাহ দিতে সমর্থ হন নাই। বিবিয়ারও ক্রমে বয়স বাড়িতে লাগিল, তাহার বয়স প্রায় বিংশতি বৎসর, তথাপি সে অবিবাহিত।
করিমবক্স এত দিবস পরে হোসেন আলির মিষ্ট কথায় ভুললেন,— সকলের সহিত তাঁহার সৎব্যবহার দেখিয়া ভূলেলেন,—দীন দুঃখী ও দরিদ্রদিগের উপর হোসেন আলির অসীম দয়া দেখিয়া জ্বাললেন। ভদ্র সমাজকে লইয়া সেরূপ আমোদ-আহ্লাদ ও ভোজাদি দানে হোসেন যেরূপ অপরিসীম অর্থব্যয় করিয়া থাকেন, তাহা দেখিয়া তিনি ভুলিলেন। আলির গাড়ী ঘোড়া ও বাবুগিরি প্রভৃতি দেখিয়া করিমবক্স একেবারে ভুলিয়া গিয়া, হোসেন আমি যে কে, কোথায় তাঁহার প্রকৃত বাসস্থান, তাঁহার বংশ মর্য্যাদা কিরূপ ও তাঁহার দেশে তাঁহার স্বভাব-চরিত্রই বা কিরূপ, তাহার কিছুমাত্র অনুসন্ধান না লইয়া, তাঁহার সহিত আপন কন্যা বিবিয়ার পরিণয় কার্য্য সমাপন করিলেন। নৃত্য গীত, বাদ্য, বাজনা. দান ধ্যান, খাওয়ান দাওয়ান প্রভৃতিতে উভয় পক্ষে অনেক অর্থব্যয় হইয়া গেল। বিবিয়া আপন স্বামীর ঘরে আসিয়া মনের সুখে দিন যাপন করিতে লাগিলেন।
করিমসক্স বুঝিলেন যে, এতদিবস প্রাণপণ চেষ্টা করিয়া তিনি যে কায্যের কোনরূপ বন্দোবস্ত করিয়া উঠিতে পারেন নাই, ঈশ্বর সদয় হইয়া এখন নিজ হইতেই তাঁহার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করিয়া দিলেন। এদিকে
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।
যে সময় হোসেন আলি এই স্থানে আসিয়া কারবার আরম্ভ করেন, তাহার কিছুদিবস পরে নিকটবর্ত্তী স্থান সকলে বড় বড় চুরি হইতে আরম্ভ হয়। ঐ চুরি যে নিত্য হইত তাহা নহে, কোন মাসে একটী, কোন মাসে বা দুইটা; কখন বা দুই তিন মাস একেবারেই চুরি হইত না। কিন্তু যে সকল চুরি হইত, তাহাতে প্রায়ই অধিক মূল্যের দ্রব্য অপহৃত হইত। দুই চারি সহস্র টাকা মূল্যের কম দ্রব্য বা নগদ ঐ পরিমাণ অর্থের যে কম চুরি হইয়াছে, তাহা প্রায়ই শুনা যাইত না। আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা