করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না। এই সকল চুরি কে করিতেছে, অপহৃত মূল্যবান অলঙ্কার-পত্র, নম্বরি নোট সকল যে কোথায় যাইতেছে, তাহারও কোনরূপ সন্ধান পাওয়া গেল না। এই সকল বড় বড় চুরির একটীরও কোনরূপ কিনারা না করিতে পারায়, পুলিস অস্থির হইয়া পড়িলেন। তাঁহারা চোর ধরিবার নিমিত্ত বিশেষরূপে চেষ্টা করিতে লাগিলেন। ঐরূপ চুরি যাহাতে আর না হয়, তাহার বিশেষ ব্যবস্থা করিতে লাগিলেন, কিন্তু কিছুতেই কিছু হইল না, ঐরূপ চুরি বন্ধ হইল না।
এইরূপে তিন চারি বৎসর অতীত হইয়া গেল, কিন্তু সেই গ্রামে বড় বড় চুরি বন্ধ হইল না, কাজেই বড়লোকের নিরাপদে বাস করা কঠিন হইয়া পড়িল। এই সকল চুরির অনুসন্ধানে কত পুলিস কর্ম্মচারী নিযুক্ত হইলেন, কত পুলিস কর্ম্মচারী বদলী হইয়া গেলেন, কত নূতন পুলিস কর্ম্মচারী আসিয়া তাঁহাদিগের