অধিক সম্মানভাজন, কারণ তাঁহাদিগের ধর্মমত অধিকতর সঙ্গতিবিশিষ্ট। তাঁহারা গর্ভস্থ হইবামাত্রই জ্ঞানী ব্যক্তিগণের যত্নলাভ করেন। ইঁহারা মাতার নিকট গমন করিয়া তাঁহার ও গর্ভস্থ শিশুর কল্যাণোদ্দেশ্যে মন্ত্র আবৃত্তি করিবার ছলে তাঁহাকে সদুপদেশ ও সৎপরামর্শ প্রদান করেন। যে সকল রমণী আগ্রহের সহিত ইঁহাদিগের উপদেশ শ্রবণ করেন তাঁহারা সুসন্তান লাভ করিয়া থাকেন। ইহাই জনসাধারণের বিশ্বাস। ভূমিষ্ঠ হইবার পরে শিশুগণ একের পর অন্যের যত্নে লালিতপালিত হয়; তাহাদিগের বয়স যেমন বাড়িতে থাকে তেমনি পূর্ববর্তীদিগের অপেক্ষা অধিকতর সুশিক্ষিত ও সুনিপুণ গুরু নির্বাচিত হইয়া থাকেন।
পণ্ডিতগণ নগরের সম্মুখস্থ প্রাচীরবেষ্টিত নাতিবৃহৎ ক্ষেত্রমধ্যে উপবনে বাস করেন। তাঁহারা আড়ম্বরবিহীন জীবন যাপন করেন এবং তৃণশয্যায় বা চর্মে শয়ন করেন। তাঁহারা মংস্য মাংস আহার ও ইন্দ্রিয়সম্ভোগ হইতে বিরত থাকেন এবং জ্ঞানগর্ভ প্রসঙ্গ শ্রবণে ও যাহারা উহা শুনিতে ইচ্ছুক তাহাদিগের নিকট ঐরূপ প্রসঙ্গ করণে কালাতিপাত করেন। শ্রোতার পক্ষে কথা বলা, কাসা কিংবা থুথুফেলা নিষেধ; এরূপ করিলে সে আত্মসংযমবিহীন বলিয়া সেই দিনই সমাজ হইতে বহিষ্কৃত হয়। সাঁইত্রিশ বৎসর এইরূপে জীবন ধারণ করিয়া প্রত্যেকেই আপন আপন সম্পত্তির অধিকারী হন, এবং অবশিষ্ট জীবন স্বচ্ছন্দে ও নিরুপদ্রবে যাপন করেন। তখন তাঁহারা উৎকৃষ্ট মসলিন বস্ত্র পরিধান করেন এবং হস্তে ও কর্ণে কয়েকটি স্বর্ণালংকার ধারণ করেন। তাঁহারা মাংস ভক্ষণ করেন, কিন্তু শ্রমসাধ্য কর্মে নিযুক্ত পশুর মাংস ভক্ষণ করেন না, এবং উগ্র ও অত্যধিক স্বাদু খাদ্য বর্জন করেন। তাঁহারা বহবপত্যলাভের আশায় যত ইচ্ছা তত রমণীর পাণিগ্রহণ করেন, কারণ বহু স্ত্রী থাকিলে অনেক প্রকারের সুবিধা হইয়া থাকে। আর