তাঁহাদিগের ক্রীতদাস নাই, এজন্য প্রয়োজনমত উপস্থিত সন্তান-সন্তুতির সেবা তাঁহাদিগের পক্ষে একান্ত আবশ্যক।
ব্রাহ্মণগণ স্বীয় পত্নীদিগকে তাঁহাদিগের দর্শন শিক্ষা দেন না, কারণ তাহা হইলে যাহারা দুষ্টা তাহারা অপরের পক্ষে নিষিদ্ধ ঐ জ্ঞান ব্রাহ্মণেতর ব্যক্তিগণের নিকট প্রকাশ করিয়া দিবে, আর বাহারা সম্যক্ ব্যুৎপত্তি-সম্পন্না তাহারা তাঁহাদিগকে ত্যাগ করিবে। যেহতু সুখ ও দুঃখ, জীবন ও মরণ যাহার নিকট তুচ্ছ সে অপরের অধীন হইতে চাহে না; জ্ঞানী পুরুষ ও জ্ঞানবতী রমণীর ইহাই লক্ষণ।
তাঁহারা প্রায় সর্বদাই মৃত্যু সম্বন্ধে আলোচনা করেন। তাঁহারা মনে করেন ঐহিক জীবন যেন গর্ভস্থ শিশুর বিকাশ-কাল; মৃত্যুই জ্ঞানিগণের পক্ষে সত্য ও আনন্দপূর্ণ জীবনে জন্ম গ্রহণ। সুতরাং তাঁহারা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হইবার উদ্দেশ্যে বহু প্রকার সাধন করেন। তাঁহাদিগের মতে মানুষের ভাগ্যে যাহাই ঘটুক না কেন, তাহা ভালও নহে, মন্দও নহে; ভাল মন্দ বলিয়া যাহা মনে হয় তাহা স্বপ্নকালীন অনুভূতির ন্যায় অপ্রকৃত; নতুবা একই বস্তু হইতে কাহারও বা সুথ, কাহারও বা দুঃখ বোধ হয় কেন? এবং একই বস্তু বিভিন্ন সময়ে একই ব্যক্তির বিপরীত ভাব উৎপাদন করে কেন?
এই লেখক বলেন, জড়-জগৎ সম্বন্ধে ইঁহাদিগের মত বালকোচিত, কারণ ইঁহারা যুক্তি অপেক্ষা কার্যেই অধিকতর সুদক্ষ; যেহেতু ইঁহারা যাহা বিশ্বাস করেন তাহার অধিকাংশই উপাখ্যান হইতে গৃহীত। কিন্তু অনেক বিষয়ে ইঁহারা গ্রীকদিগের সহিত একমত। কারণ গ্রীকদিগের ন্যায় ইঁহারাও বলেন যে এই জগৎ সৃষ্ট হইয়াছে, এবং ইহা ধ্বংসশীল ও গোলাকার। যে দেবতা ইহা রচনা করিয়াছেন ও ইহাকে নিয়ন্ত্রিত করিতেছেন তিনি ইহার সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। বিশ্বের মূলস্বরূপ কয়েকটি ভূত বর্তমান রহিয়াছে এবং জল হইতে এই জগৎ উৎপন্ন