হইয়াছে। (গ্রীক দর্শনোক্ত ক্ষিতি, অপ্, তেজঃ ও মরুৎ) এই চারি ভূত ব্যতীত একটি পঞ্চম ভূত (অর্থাৎ আকাশ) আছে, তাহা হইতেই দ্যুলোক ও তারাসমূহ সৃষ্ট হইয়াছে। পৃথিবী এই বিশ্বের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। জনন, আত্মা ও অন্যান্য বহু বিষয়ে ইহাদিগের ও গ্রীকদিগের মত এক। প্লেটোর ন্যায় ইঁহারাও আত্মার অমরত্ব, প্রেতলোকে বিচার ও এতদনুরূপ বিষয়ে আপনাদিগের বিশ্বাস রূপকাকারে গ্রথিত করিয়াছেন। ব্রাহ্মণদিগের সম্বন্ধে তিনি এই রূপ লিথিয়া গিয়াছেন।
শ্রমণদিগের বর্ণনা করিতে যাইয়া তিনি লিখিয়াছেন যে ইঁহাদিগের মধ্যে যাঁহারা সর্বাপেক্ষা অধিক সম্মানভাজন তাঁহাদিগের নাম বনবাসী (Hylobioi অর্থাৎ বানপ্রস্থাবলম্বী)। ইঁহারা বনে বাস করেন, পত্র ও বন্য ফল ভোজন করিয়া প্রাণধারণ করেন, বৃক্ষবল্কল পরিধান করেন এবং মদ্যপান ও ইন্দ্রিয়সম্ভোগ হইতে বিরত থাকেন। নৃপতিদিগের সহিত ইঁহাদিগের বাক্যবিনিময় হইয়া থাকে; তাঁহারা দূত দ্বারা ঘটনার কারণ সম্বন্ধে ইঁহাদিগের মতামত জিজ্ঞাসা করেন এবং ইঁহাদের দ্বারাই দেবতার আরাধনা ও তাঁহার নিকট আত্মনিবেদন সম্পাদন করাইয়া থাকেন। বনবাসীদিগের পরেই বৈদ্যগণ সম্মানে দ্বিতীয়স্থানীয়, কারণ ইঁহারা মানব-প্রকৃতিতে অভিজ্ঞ। ইঁহারা সহজ জীবন যাপন করেন, কিন্তু মঠে বাস করেন না। ইঁহারা ভাত ও যব আহার করিয়া জীবন ধারণ করেন, উহা যখন ইচ্ছা চাহিলেই প্রাপ্ত হন, কিম্বা কাহারও গৃহে অতিথি হইয়া লাভ করেন। ইঁহারা ঔষধ দ্বারা রমণীকে বহু সন্তানবতী ও সন্তানকে পুরুষ কিংবা স্ত্রী করিতে পারেন। ইঁহারা সচরাচর ঔষধ অপেক্ষা পথ্য দ্বারাই আরোগ্য সম্পাদন করেন। ঔষধের মধ্যে মলম প্রলেপ সর্ব্বাপেক্ষা অধিক আদরণীয়। ইঁহারা আর সমস্তই অত্যন্ত অপকারী বলিয়া বিবেচনা করেন। এই উভয় শ্রেণীর ব্যক্তিগণই শ্রম-