ডায়োনীসস ও হার্ক্যুলিস (হীরাক্লীস)
ডায়োনীসসের সম্বন্ধে অনেক কাহিনী বর্তমান আছে। তাহার মর্ম এই যে তিনিও সেকেন্দর সাহার পূর্বে ভারতবর্ষ আক্রমণ করিয়া ভারতবাসীদিগকে পরাভূত করিয়াছিলেন। কিন্তু হীরাক্লীস সম্বন্ধে জনপ্রবাদ অধিক বর্তমান নাই। নাইসা-নগর ডায়োনীসসের অভিযানের সামান্য স্মৃতিচিহ্ন নহে; এবং মীরস-পর্ব্বত ও তদুৎপন্ন আইভি অন্যতম স্মৃতিচিহ্ন। আর একটি চিহ্ন এই—ভারতবাসীরা যখন যুদ্ধে গমন করে তখন সঙ্গে সঙ্গে দুন্দুভি ও করতাল বাজিতে থাকে, এবং ডায়োনীসস-পূজকগণের ন্যায় তাহারা চিত্রিত বস্ত্র পরিধান করে। পক্ষান্তরে, হীরাক্লীসের স্মৃতিচিহ্ন অধিক বিদ্যমান নাই। সেকেন্দর সাহা যখন আয়োর্নস নামক শৈল বাহুবলে অধিকার করেন তখন মাকেদনীয়েরা বলিয়াছিল যে হীরাক্লীস উহা তিন বার আক্রমণ করিয়া তিন বারই পরাস্ত হইয়াছিলেন। আমার মনে হয়, ইহা মাকেদনীয়দিগের মিথ্যা গর্বোক্তি। তাহারা যেমন পরপমিসসকে ককেসস নামে অভিহিত করিয়াছে যদিও ইহার ককেসসের সহিত কোনও সম্পর্ক নাই—ইহাও সেই প্রকার। এইরূপ, তাহারা পরপমিসদদিগের রাজ্যে একটি গুহা দেখিয়া বলিয়াছিল যে, ইহাই প্রমীথেয়ুস নামক দেবদ্বেষীর (Titan) গুহা; এই স্থানেই তাঁহাকে অগ্নিহরণের জন্য ঝুলাইয়া রাখা হইয়াছিল। এবং এইরূপে, তাহারা যখন শিব (Sibai) নামক ভারতীয় জাতির মধ্যে উপস্থিত হয় ও দেখিতে পায় যে তাহারা চর্ম পরিধান করে তখন তাহারা স্থির করে যে, যাহারা হীরাক্লীসের সহিত যুদ্ধযাত্রা করিয়াছিল এবং পরে এদেশেই থাকিয়া যায়—শিবগণ তাহাদিগের বংশধর। কারণ শিবগণ চর্ম পরিধান তো করেই, অধিকন্তু তাহারা গদা ধারণ করে এবং আপন আপন গোরুর গাত্রে গদার চিহ্ন অঙ্কিত করে। মাকেদেনীয়দিগের মতে এ সমুদায়ই হীরাক্লীসের স্মৃতিচিহ্ন।