মেঘনাদে অধিক পরিমাণে সাড়ম্বর সংস্কৃত শব্দ প্রযুক্ত হইয়াছে। গ্রন্থকার উহার অনেক স্থলে ঘোর ঘটা করিয়া বাঙ্গালা ভাষায় অপ্রচলিত সংস্কৃত পদাবলী ব্যবহার করিয়াছেন, কিন্তু উহা দোষ না হইয়া গুণ হইয়াছে। শব্দাড়ম্বর অমিত্রাক্ষর ছন্দের অলঙ্কার স্বরূপ, শব্দাড়ম্বর না থাকিনে অমিত্রাক্ষর পদ্যের সুশ্রাব্যতা সম্পাদন হয় না। ইউরোপীয় সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত আডিসন স্বপ্রণীত “এস্পেক্টেক্টর” নামক পত্রিকায় মিল্টনের দোষগুণ বর্ণনাবসরে উহা স্পষ্টরূপে নির্দেশ করিয়া গিয়াছেন। ফলতঃ এস্থলে এ কথা বলিলে বোধ হয়, অত্যুক্তি হইবে না, যে মেঘনাদকারের ভাব ও অভিপ্রায় যেরূপ উন্নত, তাঁহার রচনাও তদনুরূপ হইয়াছে। যদি তিনি বঙ্গীয় কবিগণের অভ্যস্ত শব্দাবলীতে মেঘনাদ রচনা করিতেন, তাহা হইলে বোধ হয় উহার উপাদেয়ত্ব না জন্মিয়া বরং হেয়ত্বই ঘটিত।
জগতে যাবতীয় বিষয় পরিবর্ত্তনশীল। কি সামাজিক নিয়ম, কি শিক্ষাপদ্ধতি, কি রচনাপ্রণালী, কালক্রমে সকল বিষয়েরই পরিবর্ত্ত হইয়া আসিতেছে। অতএব এরূপস্থলে প্রাচীন পদ্ধতির নিতান্ত পক্ষপাতী হইয়া থাকাও উচিত নহে। সচরাচর