বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মেঘনাদ সমালোচন.pdf/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৮
মেঘনাদ সমালোচন।


নিবেদিলা হাসি সখী; হে নগ নন্দিনি,
দাশরথি রখী তোমা পূজে লঙ্কাপুরে
বারি সংঘটিত-ঘটে, সুসিন্দরে আঁকি
ও সুন্দর পদযুগ, পূজে রঘুপতি
নীলোৎপলাঞ্জলি দিয়া, দেখিনু গণনে
অভয় প্রদান তারে কর গো, অভয়ে!
পরম ভকত তব কৌশল্যা নন্দন
রঘুশ্রেষ্ঠ; তার তারে বিপদে, তারিণি!

 এই কএক পঁক্তি সরল ও নিরলঙ্কার মাধুরীতে পরিপূর্ণ দৃষ্ট হইতেছে।

 প্রথম সর্গে বর্ণিত হইয়াছে, মেঘনাদ ভ্রাতৃ বধের বৃত্তান্ত শুনিয়া প্রমোদ উদ্যান হইতে লঙ্কায় গমন করেন। তিনি প্রস্থান সময়ে স্বীয় সহধর্ম্মিণী প্রমীলার নিকটে শীঘ্র ফিরিয়া আসিব বলিয়া বিদায় লইয়াছিলেন, কিন্তু লঙ্কায় যাইবার পরে লঙ্কেশ্বর তাঁহাকে সেনাপতি পদে বরণ করেন; সুতরাং তিনি ফিরিয়া যাইতে পারিলেন না। এখানে প্রমীলা পতি দর্শনে সমুৎসুকা হইয়া সহচরী বাসন্তীর নিকটে লঙ্কায় যাইবার প্রস্তাব করেন। তাহাতে বাসন্তী কহেন, বিপক্ষসেনা কর্ত্তৃক লঙ্কা পরিবেষ্টিত হইয়া রহিয়াছে! তুমি তথায় কিরূপে প্রবেশ করিবে? সখীর এই বাক্যে প্রমীলা রোয় পরবশা হইয়া কহিতেছেন।