পাতা:মেয়েলি ব্রত ও কথা - পরমেশপ্রসন্ন রায় (১৯০৮).pdf/৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৮
ক্ষেত্র

পূজা করেন। গৃহকর্ত্রী অন্নাহার না করিয়া পূজান্তে দধি-দুগ্ধ ফল মূলাদি ভোজন করিবেন।

 

ক্ষেত্র ব্রত কথা।

 

 এক গরীব চাষীর ছেলে। তার মা বাপ নাই। এজন্যে সে মামার বাড়ীতে থাকতো। মামা ও মামী তাকে ভাল বাসতেন না। ছেলেটীকে মামাদের ক্ষেতে সারাদিন দা, কোদাল ও লাঙ্গল নিয়ে খুব খাটতে হতো। বাড়ীতে ফিরে এলেও দা ও কোদাল রেখে তার একটুও বিশ্রাম করবার সময় হতো না। পাড়া পড়শীরা এজন্য তাকে “দা-কোদালে” ব’লে ডাকতো। “দা-কোদালে’ বালক হলেও ক্ষেত্র দেবতার বিশে ভক্ত ছিল। তারই পুণ্যের জোরে তার মামার ক্ষেত-ভরা ফসল জন্মাতে। কিন্তু এত যে খাটুনি তবু সে কোন দিন পেট পুরে খেতে পেতো না। আধপেটা খেয়ে থাকতো। ক্ষুধার সময় কিছু চিড়ে, মুড়ি, ছাতু পেলেও অর্দ্ধেক ক্ষেত্রদেবতাকে নিবেদন ক’রে বাকী টুকু নিজে খেতে। মামার গোয়াল ভরা গোরু, পাল ভরা মোষ; ঘরে দই, দুধ, ক্ষীর সর অনেক। ছেলে মানুষ, বিশেষ বুদ্ধি শুদ্ধি নাই; সে একদিন ঘরে বেশী দুধের সর দেখে একটু খেতে চাইলে। মামী বল্লে, হতভাগা ছেলে কোথাকার, তোর জন্যে কি আর ঘরে দুধের সর রাখতে পারবো। রোজগার নাই, সর খেতে চাওয়া, কি আমার কেঃ ঠাকুর গো!

 দা-কোদালের মনে বড় দুঃখ হলো। ক্ষেত্র দেবতা ভাবলেন, এই ছেলেটী ছাড়া আর কেউ আমায় ভক্তি করে না।