পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/১০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

যশোহর-খুলনার ইতিহাস । ولانا সুন্দরবনের অন্তভুক্ত ধরেন নাই। কিন্তু ইতিহাসে দেখা যায় দনুজমর্দন নবোথিত সমুদ্রকুলসঞ্জাত দ্বীপে রাজ্য সংস্থাপন করিয়াছিলেন * এবং সে রাজ্য সভ্যতামণ্ডিত ছিল। সুতরাং সুন্দরবনের পূর্বাংশ যে এক সময়ে সভ্যতাম্পদ্ধা জাতির ক্রীড়া ক্ষেত্র ছিল, তাহাতে সন্দেহ নাই। তৃতীয়তঃ, বাখরগঞ্জের অন্তর্গত ইদিলপুরের তাম্র-শাসনে এক “চণ্ডভণ্ড” নামক অসভ্য জাতির উল্লেখ দেখা যায় { উহাতে এতদঞ্চলে যে সভ্যতা ছিল, এমন প্রমাণ হয় না। এ কথার উত্তরে ইহা বলা যাইতে পারে যে বিস্তৃত সুন্দরবনের কোন কোণে অসভ্য জাতির বাস থাকিলেই এরূপ ধারণ করা উচিত নহে যে, এতদঞ্চলে কোন সভ্যজাতির বাস ছিল না। ইদিলপুরে যখন অসভ্যজাতির বসতি ছিল, তখনই যে কপোতাক্ষ কুলে, বিস্তীর্ণ যশোহর রাজ্যে, সমৃদ্ধ অবস্থার বিকাশ থাকিতে পারে না, এমন নহে। বাবু প্রতাপচন্দ্র ঘোষ এই চণ্ডভণ্ডজাতিকে লবণ প্রস্তুতকারী মোলঙ্গীদিগের সহিত তুলনা করিয়াছেন। সমুদ্রকুলে লবণ হয়, উহা প্রস্তুত করিবার ভার অপেক্ষাকৃত অসভ্য শ্রমজীবীর উপর থাকা অসম্ভব নহে। তদ্বারা প্রমাণিত হয় না যে নিকটে সভ্যতর জাতি ছিল না । চতুর্থত, ১৫৯৯ ও ১৬০০ খৃষ্টাব্দে জেসুইট মিশনরীগণ বাকুল হইতে প্রতাপাদিত্যের রাজ্যে যাইবার পথের যে বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন, তাহাতে উহ জঙ্গলাকীর্ণ সুন্দরবনের পথ বলিয়াই মনে হয়। সুতরাং এ প্রদেশ জঙ্গলাকীর্ণ ছিল এবং তথায় কোন লোকের বসতি ছিল না। এ কথারও উত্তরে ,বলী যাইতে পারে যে সুন্দরবনের সব স্থানে একই সময়ে সমৃদ্ধ পল্লী বা বিস্তৃত বসতি কোনকালে ছিল না ; থাকিতেও পারে না এবং সে কথা লইয়া কেহ বাদামুবাদও করে না। কিন্তু তাই বলিয়া সুন্দরবনে লোকের বসতি ছিল না, এরূপ একটা সাধারণ মন্তব্য প্রকাশ করা সঙ্গত নহে। মিশনর সাহেবের কোন্‌

  • "গৌড়দেশং পরিত্যজ্য জগাম সমুদ্ৰকুলং তন্থাবত্র নৰেখিত সমুদ্রকুলসঞ্জাতং দ্বীপমেকং হবিস্তুতং ধারাবৃক্ষোপশোষ্ঠিতম্ ॥

বটুভট্টকৃত অপ্রকাশিত “দেৰ বংশ" পুখি। # J. A. S. B. (1868).