পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/১১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ԳՆ যশোহর-খুলনার ইতিহাস। খালের মধ্যবৰ্ত্তী অপেক্ষাকৃত উচ্চভূমিবিশিষ্ট নিবিড় জঙ্গলকে সেখের টেক বলে। উহা ২৩৩ নং লাটের অন্তর্গত। এখানে সুন্দরী গাছ যথেষ্ট, হরিণের সংখ্যা অত্যন্ত অধিক এবং ব্যাঘ্ৰাদি হিংস্র জন্তুর আমদানীও বেশী। সুতরাং আমাদিগকে একপ্রকার প্রাণ হাতে করিয়া এ বনে ভ্রমণ করিতে হইয়াছিল। সেখের খালের মধ্যে প্রবেশ করিয়া ডানদিকে চতুর্থ পাশখালির পার্থে এক স্থলে ইষ্টকগুহের ভগ্নাবশেষ ও কয়েকটি গাবগাছ দেখা যায়। তথা হইতে উঠিয়া বনের মধ্যে প্রায় একমাইল গেলে, একটি দুর্গ দেখিতে পাওয়া যায়। সাধারণতঃ বাওয়ালীর ইহাকে “বড় বাড়ী” বলে। সম্ভবতঃ ইহাই মহারাজ প্রতাপাদিত্যের শিবসা দুর্গ। দুর্গের অনেকস্থানে উচ্চ প্রাচীর এখনও বর্তমান। অন্যত্র ইহার বিশেষ বিবরণ দেওয়া যাইবে। এই দুর্গের উত্তর পূর্ব বা ঈশানকোণে একটি শিক মন্দিরের ভগ্নাবশেষ আছে। সেখান হইতে দক্ষিণপূৰ্ব্ব মুখে অগ্রসর হইলে, যেখানে সেখানে পুকুর ও পরে ২৩টি ইষ্টকবাড়ী ও অসংখ্য বসতিভিট্ট পাওয়া যায়। বাড়ীগুলির মাটর ঢিপি শত শত গাবগাছে ঢাকা রহিয়াছে। তাহ হইতে বাহির হইলে, একটু অপেক্ষাকৃত খোলা জায়গায় একটি সুন্দর মন্দির দৃষ্টপথবর্তী হয়। সুন্দরবনের ভীষণ অরণ্যানীর মধ্যে বিবিধ কারুকার্যখচিত এবং অভগ্ন অবস্থায় দণ্ডায়মান এমন মন্দির আর দেখি নাই। ইহার খিলানগুলি গোল নহে, পরস্তু মুসলমান স্থাপত্যামুগত খিলানের মত ত্রিকোণ। হিন্দুরাও ত্রিকোণ থিলীন ব্যবহার করিতেন, তাহার প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে। * মন্দিরের অন্যান্য প্রকৃতি দেখিলে ইহা যে মোগল আমলে কোন হিন্দুকর্তৃক নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল, তাহ অনুমান করা সহজ হয়। যদিও মন্দিরের গুম্বজ ছাদ আছে, কিন্তু চুড়া নাই, কারণ শীর্ষদেশ জঙ্গলসমাকীর্ণ হইয়াছে, তবুও ইহা মুসলমানের মসজিদ নহে, ইহা স্থির। মন্দিরের দক্ষিণ ও পশ্চিমদিকে দরজা আছে, পূর্বে ও উত্তরে কোন দরজা নাই। মুসলমানের কোন মসজিদে পশ্চিমদিকে কোন খোলা দ্বার থাকে না, এবং উহ সাধারণতঃ পূৰ্ব্বদ্বারী হইয়া থাকে। মন্দিরের দক্ষিণদিকে জঙ্গল খুব নিকটবর্তী

  • Havell's Indian Architicture pp. 52-56. “The Bengali buildero being brick layers rather than stone:masors had learnt to use the radiating arch whenever useful for constructive purposes long before the Mahomedans came there"