পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/১৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

১১২ ৷ যশোহর-খুলনার ইতিহাস। করিয়া আমাদের অনেক সন্দেহের নিরসন করিতেন । পুজনীয় পরিচালকের অধীনে বাস করিয়া এবং কাজ করিয়া যে মুখ, তাহা আমরা সৰ্ব্বদা প্রাণে প্রাণে অমুভব করিতাম। সুন্দরবনে শিকার চারি প্রকার ;–(১) মাঠাল” অর্থাৎ তীরে উঠিয় জঙ্গলের ভিতর চলিতে চলিতে শিকার ; (২) “বাওন” বা নদীবাহনে শিকার অর্থাৎ ছোট নৌকায় নদী বা খালের কুলে কুলে নিঃশব্দে চলিতে চলিতে তীরের উপর লক্ষ্য করিয়া শিকার। (৩) “গাছাল” অর্থাৎ কোন কোন বিশেষ স্থানে কেওড়া বা অন্ত গাছে উঠিয়া চুপ করিয়া বসিয়া থাকিয়া শিকার; ৪) “টোপ” অর্থাৎ নদী সৈকতে, সাগরের বেলা ভূমিতে বা অন্ত কোন উন্মুক্ত স্থানে গর্ত কাটিয়া উহার মধ্যে বসিয়া মাথার উপর পত্রাদি চাপ দিয়া শিকার। ইহার মধ্যে গাছাল এবং বাওনেই অনেক শিকার হয়। টোপের সুবিধা প্রায়ই হয় ন, কারণ খোল স্থান পাওয়া অতীব দুষ্কর। আবার শিকারের চেষ্টায় বন দুড়িয়া বেড়ান অনেকে পছন্দ করে না, কারণ উহা যেমন বিপজ্জনক তেমনি কষ্টকর। সুতরাং মাঠালও বড় কম হয়। আমাদের বেলায় কিন্তু এই মাঠালই অধিক, তবে সে মাঠালের উদেশ্ব স্বতন্ত্র ; হরিণের খোজে বা ব্যান্ত্রের পদচিহ্ন লক্ষ্য করিয়া আমরা যে কখনও কখনও অগ্রসর না হইয়াছি, তাহা নহে ; তবে আমাদের মূল লক্ষ্য প্রত্নতত্ত্বের উদ্ধার, আমাদের গল্পে, কাজে বা ভ্রমণে সৰ্ব্বদা তাহাই আলোচ্য বিষয় । মুন্দরবনে ভ্রমণ বা শিকার করিতে হইলে, তৎপ্রদেশীয় ভাষার সহিত পরিচিত হওয়া উচিত। বঙ্গদেশে প্রধানতঃ বাঙ্গলা ভাষা প্রচলিত থাকিলেও, তাহার বিভিন্ন জেলায় সে ভাষার প্রাদেশিক বিশেষত্ব রহিয়াছে। সকল জেলার ভায় সুন্দরবনের ভাষারও একটা প্রাদেশিকতা আছে। এই প্রাদেশিকতার সহিত নিকটবৰ্ত্তী কয়েকটি জেলারও ভাষাগত সম্বন্ধ রহিয়াছে। সুন্দরবনের এই মিশ্রিত ভাষাকে আমরা ‘জঙ্গলা” ভাষা বলিতে পারি। সুন্দরবনের কাঠুরিয়া, গোলের ব্যাপার, নৌকার মাৰি, আবাদকারী কৃষক এবং দেশৰ শিকারী, বাওয়ালী ও ফকিরগণ এই ভাষায় কথা কহে। এই সকল লোকের সহিত যশোহর-খুলনার সর্মস্থানের লোকের কথাবাৰ্ত্তার প্রয়োজন হয়, সুতরাং এই জঙ্গল ভাষা জেলাগত বাঙ্গলা ভাষার সহিত মিশিয়া যায় ও ডাহার শখ