পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/২০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

Y& 8 যশোহর-খুলনার ইতিহাস । যুগের শেষভাগে সুন্দরবনে যে প্রাকৃতিক বিপ্লব হয়, তাহাতেই উক্ত মন্দিরাদি ভূপ্রোথিত হইয়া যায় এবং কালীমূৰ্ত্তি বিনষ্ট হয়। ইহার পর প্রায় দুইশত বৎসর এই সকল স্থান মমুন্যের বাস ও গতিবিধি বিহীন অবস্থায় ছিল। পরে যখন পুনরায় পত্তন হইতে ছিল, তখন কপিলের কথা নানা জনশ্রুতিমুখে বিজ্ঞাপিত হয় এবং সেই স্মৃতি রক্ষার উদ্দেশ্রে চৈত্রমাসে বারুণী স্নানের দিন কপিলমুনিতে এক যাত্রী সমাগম ও মেলা আরম্ভ হয়। মধুমাসীয় কৃষ্ণাত্রয়োদশী কপিলের মাতৃমূৰ্ত্তি প্রতিষ্ঠা বা সিদ্ধিলাভের দিন হইতে পারে। এই মেলায় বহু দূরবর্তী স্থানের লোক আসিত। তখন হইতে সাধারণগৃহে কপিলেশ্বরীর পূজা প্ৰবৰ্ত্তিত হয়। লোকের বিশ্বাস উপরোক্ত তিথিতে কপোতাক্ষের জল গঙ্গাজলতুল্য পবিত্র হয় এবং উহাতে স্নান করিলে মহাপুণ্য লাভ হয়। এখন আর মাসাধিক কালব্যাপী মেলা হয় না বটে, কিন্তু চৈত্রমাসে বারুণী তিথিতে কপোতাক্ষে স্নান করিবার জন্য এখানে বহুলোকের সমাগম হয়। কপিলমুনি একটা অতি প্রাচীন স্থান। ইহা মলই পরগণার অন্তর্গত। ইহা প্রতাপাদিত্যের রাজ্যভুক্ত ছিল। তাহার পতনের পর মলই পরগণ রায় উপাধিধারী এক পরাক্রান্ত ব্যক্তির হস্তগত হয়। এই বংশীয় প্রসিদ্ধ ব্যক্তি কমলাকান্ত রায় ও গোপীকান্ত রায়। র্তাহারা চাচড়ার অধীন জমিদার ছিলেন। এখনও এই বংশীয় ব্যক্তিগণ হরিচালী ও রাজুলিতে বাস করিতেছেন। মলই পরগণার কর প্রভূত পরিমাণে বাকী পড়িলে, চাচড়া-রাজ ৮মনোহর রায় ১৬৯৯ খৃষ্টাব্দে রায়বংশীয়দিগের নিকট হইতে কোবলা দ্বারা এই জমিদারী স্বীয় হস্তে লন। চাচড়ার রাজগণ চিরদিন দেবদ্বিজে ভক্তিমান এবং দেবসেবায়ু মুক্তহস্ত, তন্মধ্যে আবার রাজা মনোহর রায় এবিষয়ে সৰ্ব্বশ্রেষ্ঠ। তিনি কপিলেশ্বরীর জন্ত এক সুন্দর মন্দির নিৰ্ম্মাণ করিয়া সেবার জন্য যথেষ্ট বৃত্তির ব্যবস্থা করেন। প্রায় দেড়শত বৎসর পরে ঐ মন্দির নদীগর্ভস্থ হয় । ইতিমধ্যে ইংরাজ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময়ে মনোহরের বংশধর প্রকষ্ঠ রায়ের রাজত্বকালে মলই পরগণা বিক্রয় হইয়া যায়। উহা সাতক্ষীরার জমিদার বাবুর ক্রয় করেন এবং তাহারাই ৮কপিলেশ্বরীর সেবার তত্ত্বাবধান করিতেন। কিছুকাল পরে তায় দিগেরও ঐ অংশ বিক্রয় হওয়ায় সে অংশ দিঘাপাতিয়ার রাজা এবং শ্ৰীধরপুরের বস্তু বাবুর ক্রয় করেন। অবশিষ্টাংশ সাতক্ষীরার বাবুর উভয় সরিকে ভোগদখা