পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৩১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

૨8 ૭ যশোহর-খুলনার ইতিহাস । সমাজনীতি ভুলে নাই। বিদ্যাবল, ধনবল, জনবল প্রভৃতি যে বলেই যিনি বলী হউন না, সকলকেই আভিজাত্যের চরণতলে মস্তক অবনত করিতে হয়। ংশপরম্পরাগত প্রবাদ ও বিবিধ কুলগ্রন্থ হইতে আমরা এই কৌলীন্ত সংস্থাপনের প্রমাণ পাই। সেনরাজগণের প্রায় সকলেরই তাম্রশাসন আবিষ্কৃত হইয়াছে। কিন্তু অবশ্য ইহা খুব আশ্চর্য্যের বিষয় যে এই সকল তাম্রলিপিতে দেশের অনেক কথা থাকিলেও এই কৌলিন্ত স্থাপনের কথাটা নাই। ইহা হইতে কেহ কেহ অনুমান করেন যে বল্লালের আভিজাত্য সংস্থাপন এক ‘রচা কথা’। * প্রথমতঃ তাম্রশাসনাদি রাজাদের শাসনকালেই প্রস্তুত হয় ; তাহাতে সেই সময়ে যে সকল ঘটনা খাতিলাভ করে, তাহারই উল্লেখ থাকে। আজ বঙ্গদেশে কৌলীষ্ঠের যে প্রভাব দৃষ্ট হইতেছে, বল্লাল প্রভৃতির সময়ে তাহ ছিল না। বাস্তবিক ঘটকগণের অসংখ্য কুলকারিকা রচনা ও সুপ্রসিদ্ধ দেবীবর ঘটকের মেলবন্ধনের পর, কৌলীন্ত ব্যাপার লইয়া যেরূপ আন্দোলন চলিয়াছে, ইহ ওতপ্রোতভাবে সমাজ-দেহে অনুপ্রবিষ্ট হইয় তাহার মূলগ্রন্থিযেরূপভাবে বিলোড়িত করিতেছে, পূৰ্ব্বে এরূপ ছিল না। ব্রাহ্মণের সৎকার ও মর্যাদা রক্ষা করিয়া হিন্দু রাজা কখনও গৰ্ব্বিত হইয়া আত্মশ্লাঘা প্রকটিত করিতেন না। দ্বিতীয়তঃ কুলগ্রন্থে অনেক কথা অতিরঞ্জিত হইতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে পুথিলেখকদিগের দ্বারা উহাতে নানা অংশ প্রক্ষিপ্ত হইতে পারে, তাহ স্বীকার করি। কিন্তু তাই বলিয়া বল্লালী কুলপ্রথা বলিতে কোন জিনিস ছিল না, এরূপ বলা যায় না। দেশশুদ্ধ পণ্ডিত ঘটকের একেবারে বায়বীয় মন্দির গঠন করিয়াছেন, এরূপ কল্পনা করা অষ্ঠায় । বিশেষতঃ এই কৌলীন্ত সম্বন্ধীয় প্রবাদ কথা এরূপ ভাবে বাঙ্গালীর অস্থিমজ্জায় প্রবেশ করিয়াছে, এবং বাঙ্গালীর আবালবৃদ্ধবনিত এই বল্লালী অভিজাত্যের সহিত পরিচিত যে, ইহাতে অবিশ্বাস করিতে পারা যায় না। প্রবাদ বাদ দিয়া বোধ হয় জগতের কোন দেশের ইতিহাস রচিত হয় নাই। প্রবাদে রঞ্জিত পল্লবিত কাহিনী থাকিলেও সকল ঐতিহাসিকের নিকট ইহার মূল্য স্বীকৃত হইয়াছে। বাঙ্গালাদেশে বল্লালের মত কোন পরিচিত হিন্দু রাজা নাই ; বল্লালের ইতিহাস বাদ দিলে .*

  • প্রবাসী, ১৩১৯, শ্রাবণ, ১৯৭ পৃ: