পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

\, যশোহর-খুলনার ইতিহাস। নানাস্থত্রে যশোর রাজ্যের অধিকাংশ পরগণার জমিদার হইলেন, তখন নবাব সায়েস্তা খার আমলে যশোরের ফৌজদারের পদ উঠিয়া গেল। তবুও চাচড়ার রাজবাটীর সন্নিকটে বলিয়া মুড়লীতে যশোরের একটি ফৌজদারী কাছারী রছিল। কিন্তু মনোহর রায়ই তখন যশোরের প্রকৃত রাজা ছিলেন। - ইংরাজের রাজাধিকার করিয়া যখন দেওয়ানী বিভাগ মুর্শিদাবাদ চইতে কলিকাতায় আনিলেন, তখন যশোহর রাজ্যেরও একজন রাজস্বসংগ্রাহক ব: কালেক্টরকে এই মুড়লাতে পাঠাইয় দিলেন ( ১৭৭২ )। কিন্তু দুই বৎসর পরে এ ব্যবস্থ উঠিয় গেলেও, ১৭৮১ অৰ্ব্বে শান্তিরক্ষার জন্ত পূৰ্ব্বকালীয় ফৌজদারের মত একজন শাসক বা ম্যাজিষ্ট্রেট নিযুক্ত হইয়া আসিলেন। তখন যে আফিসআদালত হইল, তাহাকে লোকে মুড়লীর কাছারীও বলিত, যশোরের কাছারাও বলিত। ১৭৮৯ খৃঃ অব্দে এই সকল কাছারা পার্শ্ববর্তী কসবা বা সাহেবগঞ্জে স্থানান্তরিত হইল, তখন হইতে ঐ স্থানের নাম হইল—যশোর Jes ore । বৰ্ত্তমান যশোহর সহরের নামের ইতাই উৎপত্তি। এক্ষণে লোকে সাধারণ কথায় ইহাকে যশোর বলে, এবং বাঙ্গালী ভাষায় বিশুদ্ধ করিয়া যশোহর লেখা হয়। যশোর প্রাচীন কথা ; যশোহর বিশুদ্ধ বা অর্থসঙ্গত হইলেও আধুনিক কথা। আমরা এ পুস্তকে অনেকস্থানে বিশেস কোন পার্থক ন ধরিয়া উভয় নামই ব্যবহার করিব। প্রাচীন রাজ্যের প্রসঙ্গ তইলে তাছাকে সাধারণতঃ যশোরই বলিব, যশোহর বলিব না ; আধুনিক জেলাকে যশোর বা যশোহর বলিব এবং আধুনিক সহরকে সাধারণতঃ যশোহরই বলিব, যশোর বলিব না। খুলনা —যশোহরের মত খুলনা নামের উৎপত্তি সম্বন্ধে বিশেষ কোন বিশ্বাসযোগ্য কারণ পাওয়া যায় না। প্রবাদ কতই আছে বটে, কিন্তু কোন প্রবাদেরই বিশেষ ভিত্তি আছে বলিয়া মনে হয় না। তবুও প্রবাদগুলির দুই একটি আলোচনা করা উচিত। পূৰ্ব্বকালে এখানে মুন্দরবনের ভীষণ জঙ্গল ছিল। ইংরাজ আমলেও খুলনাকে নয়াবাদ বা নূতন আবাদ বলিত ; অথচ উত্তর পারে “সেনের বাজার” প্রাচীন স্থান। সেই পূৰ্ব্বকালেও লোকে কাঠ কাটিতে মুন্দরবনে যাইত ; তখন এদেশের ব্যবহারোপযোগী যাহা কিছু কাঠ মুন্দরবন হইতেই আসিত। পশ্চিমদেশে বা বিদেশে বাণিজার্থ যাইতে হইলে, সুন্দরবনের মধ্য দিয়া যাইতে হইত। ময়াবাদেই বসতির শেষ এবং বলের