পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৩৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

বসতি ও সমাজ । २७१ এক্ষণে জিজ্ঞান্ত এই হইতে পারে যে, এই সকল মুলক্ষণযুক্ত কারন্থগণ বল্লালী ব্যবস্থায় কৌলীন্য পাইলেন না কেন ? কৌলীন্ত কয়জনে পাইয়াছিলেন ? তাহার বিচারই বা করিয়াছিল কে ? কনোজগত ব্রাহ্মণ কারস্থের শূর ও সেন রাজগণের বৃত্তিভুক্ হইয়া রাজধানীর সন্নিকটে বাস করিতেছিলেন। পুরুষানুক্রমে রাজদরবারে আপনাদিগের উপস্থিতি জ্ঞাপন করিয়া স্তাবকতাদ্বারা রাজপ্রতি আকর্ষণ করাই উহাদের কাৰ্য্যের অন্তৰ্ভুক্ত ছিল, বিচারসভায় ইছাদেরই বংশধরগণ অধিক সংখ্যক উপস্থিত ছিলেন। রাজবিচারে ইছারাই বিচারের সার সম্মান গ্রহণ করিয়াছিলেন। তাহার মধ্যেও আবার দত্তবংশীয়গণ ভৃত্যত্ব হইতে একটু নিবৃত্ত হওয়া মাত্র কৌলীন্ত-বিবর্জিত হইয়াছিলেন। কিন্তু সেই দত্তরাই ছিলেন মহাসান্ধিবিগ্রহিক, মহাপাত্র, মহাসামন্ত প্রভৃতি উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত। লক্ষ্মণসেনের দরবারে দত্তের প্রাধান্ত এত অধিক ছিল যে কৌলীন্তলাভ তাহার নিকট নগণ্যই ছিল। মৌলিক কারস্থেরা সেই সময় নানা কাৰ্য্যব্যপদেশে বঙ্গরাজ্যের নানা ভাগে কার্য্যে নিরত ছিলেন ; রাজধানীতে অনবরত যাতায়াত তখন অনায়ালগত ছিল না। আমরা বিশ্বাস করি, ধৰ্ম্মনিষ্ঠ শ্রোত্রিয় ব্রাহ্মণ এবং কৰ্ম্মনিষ্ঠ মৌলিক কায়স্থগণ আভিজাত্যের জন্ত দূরবর্তী স্থান হইতে রাজধানীতে আনাগোণা করিয়া উঠিতে পারেন নাই। র্তাহাদের কৌলীন্তলাভে বঞ্চিত হইবার ইহাই অন্যতম কারণ । - বল্লালের কৌলীন্তপ্রথা দেশমধ্যে এক ভেদনীতি প্ৰবৰ্ত্তন করিয়া বঙ্গদেশের সৰ্ব্বনাশ সাধন করিয়াছিল। এই প্রথা প্রবর্তিত হওয়ার পর হইতে সামাজিকের দোষগুণ বিচার ও জাতিমৰ্য্যাদায় কে বড় কে ছোট ইহাই লইয়া দেশের সৰ্ব্বজাতীয় লোক এমন ভাবে ব্যতিব্যস্ত ও অনন্তকৰ্ম্ম হইয়াছিল, যে দেশের অবস্থার দিকে কেহ বিন্দুমাত্রও দৃষ্টপাত করে নাই। কে কাহার অনুগ্রহণ করিবে, অন্নগ্ৰহণ না করিয়া কিরূপে শত্রুত সাধন করা যায়, এই সকল সামাজিক কথা লইয়া লোকের এত অধিক মাথাব্যথা হইত যে, প্রকৃত অন্ন কোথা হইতে হয়, দেশের অন্ন দেশে থাকিৰে কিনা, সে সকল চিন্তা তাহার একেবারেই পরিহার করিয়াছিল। রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার বিষয়ে তাহারা এতই উদাসীন হইয়াছিল যে, পাঠান বিজয়ের পরে দেশের কি পরিবর্তন হইল,