পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ-বাহ্যিক প্রকৃতি ও বিভাগ। সাগরাভিমুখিনী গঙ্গা যেস্থান হইতে বামে পদ্মা ও দক্ষিণে ভাগীরথী নামক দুই প্রধান শাখায় বিভক্ত হইয়াছে, সেই সন্ধিস্থান হইতে সমুদ্রকুল পর্যন্ত এই উভয় শাখার অন্তৰ্ব্বৰ্ত্তী ভূভাগ একটি ত্রিভুজাকৃতি ধারণ করিয়াছে। পৃথিবীর মধ্যে গঙ্গার একটা বিশেষত্ব আছে ; হিমালয়ের মত বহুবিস্তৃত, উচ্চতম, চিরতুষারাবৃত পৰ্ব্বতমালার সহিত গঙ্গারমত এমন ঘনিষ্ট সম্বন্ধ অন্য কোন নদীর নাই। হিমালয়ের গাত্রধেীত জলরাশি শত শত নিঝরিণীপথে গঙ্গার দেছপুষ্ট করে এবং অপরিমিত পৰ্ব্বতরেণু লইয়া তাহাকে উপহার দেয়। পৃথিবীর মধ্যে এমন অধিক পৰ্ব্বতরেণুও অন্য কোন নদী বহন করে না ; এবং এমন ভূমিগঠনের ক্ষমতাও অন্য নদীর নাই। এই রেণুসমষ্টি জলসংযোগে পলিমাটা হয় ; গঙ্গা ও তাঙ্গর শাখাসমূহ সেই পলিমাট বহন করিয়া স্রোতের পথে দুই পার্শ্বে রাখিয়া রাথিয় ভূমি বৃদ্ধি করিতে করিতে চলিয়া যায়। সেই পলি দিয়াই গঙ্গা স্বীয় বাহুদ্বয়ের মধ্যবৰ্ত্তী ত্রিকোণ ভূভাগ গঠন করিয়াছে। উহাকে আমরা ইংরাজীর অনুকরণে ব’দ্বীপ বলি ; এই ব’দ্বীপকে গঙ্গোপদ্বীপ বলাই সঙ্গত। পদ্মার বাম ভাগে ঢাকা জেলার দক্ষিণাংশ, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্রের মোহানাস্থিত প্রদেশ এবং ভাগীরথীর পশ্চিমকুলে মেদিনীপুরের দক্ষিণভাগ এই একই প্রকার পলি দ্বারা গঠিত। এই সমগ্র ভূভাগের প্রাকৃতিক অবস্থা ও প্রকৃতি একই প্রকার ধরা যাহতে পারে। উক্ত বদ্বীপ যে কেবলমাত্র পদ্মা ও ভাগীরথী বেষ্টিত, তাহা নহে। উহার মধ্যভাগেও অনেকগুলি নদী উক্ত উভয় শাখা হইতে আসিয়া দক্ষিণাভিমুখে সমুদ্রে পড়িয়াছে এবং তাহার এই গঙ্গোপদ্বীপকে পূৰ্ব্বপশ্চিমে কতকগুলি ভাগে বিভক্ত করিয়াছে। পূৰ্ব্বদিকে গৌরী মধুমতী, মধ্যস্থানে মাথাভাঙ্গা-কপোতাক্ষ, পশ্চিম দিকে যমুন-ইচ্ছামতী উক্ত পদ্মা বা ভাগীরথী হইতে নির্গত হইয়া সমুদ্র পৰ্য্যন্ত প্রবাহিত হইতেছে। এক্ষণে মধুমতীর পূর্ববৰ্ত্তী অংশ ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত এবং গৌরী মধুমতী ও ভাগীরথীর মধ্যবর্তী অংশকে গ্রেসিডেন্সী বিভাগ বলে। এই প্রেসিডেন্সী বিভাগের মধ্যে আবার যে অংশ প্রধানতঃ

  • গৌরীকে সাধারণতঃ গোরাই, গড়াই বা গড়ই বলে ।

వీ