পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

X8 যশোহর-খুলনার ইতিহাস । হইতে হয় ; তখন প্রথম উদ্দেশু বা জল নিষ্কাশন কাৰ্য্য বন্ধ হওয়াতে, নদী দেশের মধ্যে অনিষ্টকারক হইয় পড়ে। অনেক নদী এইরূপে মজিয়া মরিয়া গিয়া “মরাগাঙ্গ” নামে খাত রাখিয়া গিয়াছে। গঙ্গা নামটি বঙ্গদেশে লোকের নিকট এতই মধুর যে তাহারা গঙ্গা বলিতে প্রধানতঃ ভাগীরথীকে বুঝিলেও সকল নদীকেই গঙ্গা বা “গাঙ্গ” বলে। আর নদী যেখানে শীর্ণকায় হইয়া পড়ে, সেখানে তাহার নাম হয় কালিন্দী বা কালীগঙ্গা। এমন কত শত কালীগঙ্গা যে যশোহর খুলনার যেখানে সেখানে আছে, এবং প্রাচীন নদ নদীর বিস্তৃতির স্মৃতি জাগাইয়া দিতেছে, তাহা বলিবার নহে। ভূমি নিৰ্ম্মাণ করাই গঙ্গা বা তাহার শাখা সমূহের প্রধান কাৰ্য্য। সে কার্য্যের ক্ষেত্র ও মাঝে মাঝে পরিবৰ্ত্তিত হয়। কোন এক সময় স্থানবিশেষে কতকগুলি নদী মিলিয়। এই জমি নিৰ্ম্মাণ-কাৰ্য্য আরম্ভ করে । তখন কতকগুলি নদী প্রবলবেগে সেই দিকে বহে। বামে দক্ষিণে পলি রাখিয়া দেশের প্রকৃতি পরিবর্তন করিতে করিতে, নদীগুলি সরিয়া সরিয়া কৰ্ম্মক্ষেত্র বাছিয়া লয়। এইরূপে একস্থানের কার্য্য প্রায় সমাপ্ত হইলে সেদিকে নদী মজিয়া যায়, স্রোতের জল পায়না। অন্যদিকে পুনরায় কার্য্যারম্ভ হয়। এই ভাবে দেখিলে যেন দেখা যায় যে যশোহর জেলার পশ্চিমাংশে ও খুলনার উত্তরাংশে এই পলিসঞ্চয় কাৰ্য্য শেষ হইয়াছে। এখন যশোহরের পূর্বপ্রান্তে এবং খুলনার দক্ষিণ ও পূৰ্ব্ব সীমাপর্যন্ত প্রবল বেগে কার্য চলিতেছে। এযুগে মধুমতী ও নবগঙ্গ সৰ্ব্বাপেক্ষ কাৰ্য্যকারিণী। মধুমতী খুলনার পূৰ্ব্ব দক্ষিণ কোণে সুন্দর বন আবাদ করিতেছে । * এই সকল অবস্থার একটা ধারণা করিতে হইলে এই নদী-মাতৃক দেশের প্রধান সম্পত্তি নদীসমূহের গতিবিধির বিষয় জানা প্রয়োজনীয়। এজন্য উহার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী প্রদত্ত হইতেছে।

  • Thus the whole river system has been changed, the many rivers that used to flow from north-west to south-east have now their heads closed and the Modhumali sends its waters accross their paths, changing the cross streams into principal streams and determining a general southwestward flow of the river currents,

Westland's Reports on Jessore p. 10.