পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৪৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

হরিদাস । లి3షి অধ্যক্ষ ছিলেন গোরাই কাজী। হরিদাসের নামানুকীৰ্ত্তন তাহার সহিল না। তাহার জানা ছিল, হরিদাস যবনকুলে জাত ; মুসলমান হইয়া হরিনাম,— এমন পাপ কি আছে ? হরিদাসকে শাসন করিবার জন্য কাজী ব্যস্ত হইয়া পড়িল। শুধু হরিদাসকে শাসন নহে, তেমন শাসন কাজীও করিতে পারিত ; কিন্তু হরিদাস যে হরিনাম শুনাইয়৷ দেশ মাতাইয়৷ তুলিয়াছে, মুসলমানে হরিনাম করিলে পাঠান শাসন যে অচিরে অস্তমিত হইবে । সুতরাং রোগের মুলোচ্ছেদ করিতে হইবে ; হরিদাসের সর্বনাশ সাধন সংকল্পে র্তাহার বিপক্ষে রাজদ্বারে নালিশ রুজু হইল। গোঁড়াধিপ হুসেন সাহ তখন দেশের রাজা, বিচার তাহার নিকট হইবে । হরিদাস কারারুদ্ধ হইয়া গৌড়ে আনীত হইলেন। তথায় হরিদাসের বিচার হইল। সে বিচারের সঙ্গে ধৰ্ম্মবিচারও চলিয়াছিল। হুসেন সাহ প্রকৃতভাবে হিন্দুবিদ্বেষী ছিলেন ; কিন্তু যেখানে হিন্দু ধৰ্ম্মের সহিত ইসলাম ধৰ্ম্মের বিরোধ, সেখানে হুসেন সাহ মুসলমানের পক্ষে, হিন্দুর কেহ নহেন। উচ্চ যবনকুলে জন্মগ্রহণ করিয়া হরিদাস যেন হরিনাম না করেন, তাহাই হুসেনের প্রথম অনুরোধ হইল ; তিনি হরিনাম ত্যাগ করিলে রাজকোপ হইতে নিস্কৃতি পাইতে পারেন, তাহারও আভাস দেওয়া হইল। কিন্তু এখানে হরিদাস প্ৰহলাদের অবতার, বীর সন্ন্যাসী, তিনি সদৰ্পে বারংবার বলিলেন;– . “খণ্ড খণ্ড যদি হই, যায় দেহ প্রাণ। তবুও আমি বদনে না ছাড়ি হরিনাম।” কত বুঝান হুইল, কিন্তু সেই একই উত্তর। তখন ক্রোধভরে কাজীর ব্যবস্থায় হরিদাসের শাস্তির আদেশ হইল। গৌড় তখন প্রকাও সহর; উহাতে ২২টি বাজার ছিল। আদেশ হইল হরিদাসকে লইয়া এই ২২ বাজারে বেত মারা হইবে। তাছাই হইল। দুরন্তু যবনের নিদারুণ প্ৰহারে হরিদাস ভীষণ কষ্ট পাইলেন, কিন্তু সে কষ্টের বোধ ছিল না। তিনি সমাধিগত সাধুর মত নিৰ্ব্বাক্ হইয়া রছিলেন, আর মধ্যে মধ্যে শ্ৰীভগবানের অবতারের মত শক্রর জন্ত আশীৰ্ব্বাদ ভিক্ষা করিতেছিলেন – “এ সব জীবেরে প্রভু করহ প্রসাদ । মোর দ্রোহে নহে এ সবার অপরাধ।” এমন উক্তি আর কি ভারতে হইবে । দারুণ প্রহারে হরিদাস অজ্ঞান হুইয়। 8ፃ