পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৪৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

গাজীর আবির্ভাব ○b^○ বার বাজারের একটু দক্ষিণে মাস্লে-হাসিলবাগ নামক গ্রামে এক হাট হইত, ঐ হাটের নাম বদরের হাট। নৌকায় মাঝির যে বদরের নাম না উচ্চারণ করিয়া নৌকা ছাড়ে না, সেই বদরের নামেও এ হাট হইতে পারে। এই বদর উদ্দীন এক জন প্রসিদ্ধ পীর, চট্টগ্রাম সহরে পীর বদরের কবর আছে। হাসিলবাগে আসিয়া শ্রীরাম তাতির উপর গাজী সাহেব অনুগ্রহ প্রকাশ করেন, এবং তাহাকে ধনী করিয়া দেন। তিনি জামলাগোদা নামক এক ব্যক্তির গোদ আরোগা করিয়া দেন । পুথিতেও তাহার বিশেষ উল্লেখ আছে। স্থানীয় লোকে বলে যে তাহারা শুনিয়াছে গাজী এখান হইতে কুনিয়া নগরে গিয়া মটুক রাজার কস্তাকে বিবাহ করেন। পুথিতে কিন্তু কুনিয়া নগরের স্থলে ব্রাহ্মণ নগর আছে i আমরা সে কথা পরে বলিব । h বারবাজার হইতে গাজী কালু সোণারপুর গিয়াছিলেন। এই সোণারপুর হাতিয়াগড়ের অন্তর্গত । চব্বিশ পরগণা জেলায় কলিকাতা হইতে দক্ষিণ মুখে যাইবার রেলওয়ে পথে এখনও সোণারপুর একটি প্রসিদ্ধ জংসন ষ্টেশন। সোণারপুরে গাজী কালু প্রভৃতি সকলে মসজিদে গিয়া পৌঁছিয়াছিলেন বলিয়া পুথিতে বিবৃত আছে। সম্ভবতঃ গাজী কালুর পূৰ্ব্বে ত্রিবেণী হইতে বরখান গাজী এই অঞ্চলে স্থানে স্থানে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। সোণারপুর তখনও একটি সুন্দর সহর ছিল। এই স্থানে কিছুকাল অধিষ্ঠান করিয়া গাজী মুকুট রায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করেন । এই মুকুট রায় কে ? চতুর্দশ পরিচ্ছেদ—মুকুট রায় । প্রাদেশিক কাহিনী এবং প্রচলিত প্রবাদ হইতে আমরা কয়েকজন মুকুট রায়ের পরিচয় পাই। (১) রায় মুকুট নামে নবদ্বীপ অঞ্চলে একজন পণ্ডিত ছিলেন, ইনি অমরকোষের এক টীকা প্রণয়ন করেন। রায় মুকুটপদ্ধতি নামে একখানি স্মৃতিগ্রন্থও তাহার নাম রক্ষা করিয়াছে। তীক্ষ বুদ্ধির জন্ত ইহার এক উপাধি ছিল, 'বৃহস্পতি। ইনি ব্রাহ্মণ এবং গৌণ কুলীন। (২) জমিদার মুকুট রায়, তাহার কনিষ্ঠ ভ্রাতার নাম বিনোদ রায়। ইহার কাশুপ গোত্র, চাটুতি গাঞি। স্বনামখ্যাত ঐতিহাসিক y রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় মহাশয় গুহার রাজবালা নামক উপন্যাসে লিখিয়াছেন যে, মুকুট রামের কী