পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৫০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

83 8 যশোহর-খুলনার ইতিহাস । সম্মানিত উপাধি দিতেন। র্তাহার অমাত্য বমুবংশীয় পুরন্দর খা কায়স্থসমাজের নানা সংস্কার করেন। সে সংস্কারের ফল এতদঞ্চলে এখনও বিদ্যমান রহিয়াছে। এ যুগে দুই দিক্ হইতে দুইটি বিভিন্ন সমাজের শক্তি-স্রোত যশোহর-খুলনাকে প্লাবিত করিয়াছিল। পশ্চিমদিক্ হইতে নবদ্বীপ সমাজ ও পূৰ্ব্বদিক্ হইতে চন্দ্রদ্বীপ সমাজ যশোহর-খুলনার উপর আধিপত্য বিস্তার করিয়াছিল। কপোতাক্ষ নদ উভয় প্রতিপত্তির মধ্যসীমা হইয়া দাড়াইয়াছিল। চৈতন্যদেবের সমসাময়িক রঘুনন্দন সমগ্র স্মৃতিশাস্ত্র মন্থন করিয়া অষ্টাবিংশতি-তত্ত্ব প্রকাশ করেন এবং উহ! দ্বারা লৌকিক ক্রিয়ানুষ্ঠানের ব্যবস্থা প্রচলিত হয়। তাহার সে ব্যবস্থা সমস্ত বঙ্গদেশের উপর কার্যকরী হইলেও নদীয়ার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রীতিনীতিগুলি কুশদ্বীপ পার হইয়া কপোতাক্ষের পূর্বদিকে গিয়াছিল কিনা সন্দেহ। সে অঞ্চলে পূৰ্ব্ববঙ্গের ব্যবস্থাই প্রধান ছিল। একাদশী তিথিতে পশ্চিমবঙ্গে ব্রাহ্মণ ও উচ্চবর্ণের বিধবাগণ “নির্জলা” উপবাস করেন ; কিন্তু কপোতাক্ষের পূৰ্ব্বদিকে একটা ধারণা আছে যে বিধবাদিগের বিশেষতঃ পুত্রবতী বিধবাগণের নির্জলা একাদশীর উপবাস করা পাপজনক। প্রকৃত যশোর রাজ্য নদীয়ার সীমাবহিভূত ছিল। বনগ্রাম মহকুমা তখন নদীয়ার অংশ এবং বাগের হাট মহকুমা তখন বরিশালের অংশ ছিল । সুতরাং এখনকার যশোহর-খুলনার সীমানুসারে সমাজের অবস্থা স্থির করিতে হইলে, তিনটি সমাজের অবস্থা বুঝিতে হয়। চন্দ্রদ্বীপ, যশোর ও নদীয়া—আচার-ব্যবহারে ও আহার-পরিচ্ছদে পৃথক পৃথক ছিল । সমাজের মধ্যে ব্রাহ্মণগণ সৰ্ব্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন ; কিন্তু বৈষয়িক প্রতিপত্তি কায়স্থেরই অধিক ছিল। আইন আকবরিতে বঙ্গদেশে অসংখ্য কায়স্থ রাজস্তের নাম আছে ; ভুঞ। রাজগণের মধ্যেও অনেকে কায়স্থ ছিলেন। তবুও পাঠান আমলে রামচন্দ্র র্থ, মুকুটরায় প্রভৃতি প্রসিদ্ধ ব্রাহ্মণ ভূম্যধিকারীর পরিচয় পাই ; এবং এ যুগের শেষভাগে কুশদ্বীপের অন্তর্গত ইচ্ছাপুরে হোড় চৌধুরীগণ ও ঝিনাইদহ অঞ্চলে নলডাঙ্গার প্রসিদ্ধ রাজবংশ প্রধান হইয়া উঠিয়াছিলেন। বৈদ্যগণ তখনও কোন জমিদারী সংস্থাপন করেন নাই ; তাহার শাস্ত্রচর্চা ও চিকিৎসা ব্যবসায় দ্বারা সৰ্ব্বজাতীয় লোকের শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন । কারস্থ