পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ—অদ্যান্য প্রাকৃতিক বিশেষত্ব । ©ጫ aকগুরে ঘই” আছে। ডিম ছাড়িলে কইমাছ শীর্ণকায় হইয়া মস্তকসৰ্ব্বস্ব থাকে। তাঁহারই সহিত তুলনায় এখন ম্যালেরিয়া-প্ৰপীড়িত যশোরবাসীই বিদেশে “কগুরে যই” বলিয়া উপহসিত হয়। কিন্তু এই মস্তকসৰ্ব্বস্ব রুগ্ন যশোরবাসীর মস্তক যে আছে, তাহাতে সন্দেহ নাই। যশোর খুলনায় পক্ষীর সংখ্যা অল্প নহে। হাড়গিলে, শকুনি, গৃধিনী, নানা জাতীয় চিল, বাজ, বক, ও পেচক, মাংসাশী পক্ষী। দাড়কাক এবং যশোরের উত্তরাঞ্চল বালী পাতি কাক, উভয়েই সৰ্ব্বভুক। পেচা ও ভূতুম্ (হুতোম পেচা ) অমঙ্গলজনক ও নিশাচর। উত্তরভাগে বাদুড় স্থানে স্থানে লাথে লাখে একত্র বাস করে এবং রাত্রিকালে দেশের ফলকৃক্ষের উপর রাজত্ব করে। কোকিলের কুহুরব, পাপিয়ার “চোকগেল” বুলি, তাড়োর “ইষ্টকুটুম” ধ্বনি, দ্বয়েল বা শুমার শীস, চাতকের “ফটিকজল” ও “বউকথা কও পার্থীর চীৎকার কানন ও প্রান্তর মুখরিত করে। মানুষে শালিক ও টিয়া পুষিয়া থাকে ; ময়ূন বা লালমোহন এ দেশের পাখী নহে। হাস, পায়রা ও কুকুট গৃহপালিত পক্ষী। ঘুঘু, চড়ুই, বাবুই, টুনি, কুটকুলি প্রভৃতি জঙ্গলে থাকে। যশোরের উত্তরভাগে বিল বাওড়ে কান, সরাইল, পানি কুমড়ী ও গয়াল প্রভৃতি ঝাকে ঝণকে থাকে এবং লোকে উহাদিগকে মারিয়া খায় ও বিক্রয়ার্থ খুলনা অঞ্চলে আনে। ডাছক ও মাছরাঙ্গা সৰ্ব্বত্র জলের ধারে থাকে । বৃক্ষ-লতা— ফলের বৃক্ষের মধ্যে পূৰ্ব্বভাগে সুপারি, নারিকেল, মধ্যভাগে তাল ও খেজুর, উত্তরাংশে আম ও কাটাল ভাল হয়। বাগেরহাট অঞ্চলের মুপারি ও যশোর নলডাঙ্গার আম বিখ্যাত। লিচু, জামরুল বেশীদিন আসে নাই, তবে লিচু আমের সহিত মিত্রতা করিয়া যশোরে ভাল হয়। আগে ছিল বরই ( বদরী বা টেপা কুল) এবং গ’য়ে আম (গয়ার আম বা পেয়ারা), এখন তাহারাও আছে, তবে ভাল কুল ও পেয়ারার কলম আসিয়া তাহাদের পশার মাটী করিতেছে। গোলাপ ও কালো জাম, বেল, তেঁতুল, চালিতা ও নানাবিধ লেবু সৰ্ব্বত্র ফলে। ম্যালেরিয়া-প্ৰপীড়িত যশোরে তেঁতুলের জাদর কিছু অধিক। হুগলীর মত এখানকার লোকেও তেঁতুল কিছু ভালবাসে এবং ভাবে ইহা স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারক। যেখানে জল বায়ু উভয়ই অপকান্ধক, সেখামে তেঁতুলের অতিরিক্ত আদর দেখির এক কৰি লিখিছেন –