পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

সপ্তম পরিচ্ছেদ-সুন্দরবনের উত্থান ও পতন। 8వ হয়। তখন মুন্দর বনের স্থতি লুপ্ত হয়। কেবল মাত্র পুষ্করিণী ও কুপ খনন করিবার সময়ে, মৃত্তিকার নিম্নে কোথায়ও জোব মাটী, কোথায়ও সুন্দরী প্রভৃতি ক্ষের গুড়ি, কখন কখন বৃহৎ পাটুলি প্রভৃতি নৌকার ভগ্নাবশেষ প্রাচীন কালের পরিচয় প্রদান করে। এইরূপে ভাটরাজ্যের জমি ক্রমে দক্ষিণ দিকে নিম্ন হইতে হইতে, সমুদ্রের সহিত সমতল হইয়াছে। যখন সমুদ্রে প্লাবন উঠে, তখন তাহাতে নিম্ন প্রদেশ প্রতিপক্ষে কয়েকদিন জলে ডুবিয়া থাকে। পক্ষে পক্ষে এইরূপে ডুবে এবং সমস্ত জঙ্গলের ভূমি পৃষ্ঠ কর্দমাক্ত হইয়া পড়ে। এই অবস্থাই আবার সুন্দরী প্রভৃতি বঙ্গবৃক্ষের জীবনধারণ পক্ষে বিশেষভাবে সহায়তা করে। সাধারণতঃ সুন্দরবনের এই অবস্থা চলিতেছে। - কিন্তু সময় সময় এক একটি বিপ্লব উপস্থিত হুইয়া, ঘোর পরিবর্তন ঘটাইয় থাকে। কখনও কখনও ভীষণ ঝটিকা উঠিয়া, বহুবৃক্ষ উম্মলিত করিয়া দে এবং সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গল এরূপ দুর্ভেদ্য ও ভয়সস্কুল হয় যে লোকের পক্ষে আবাদ করা বা কাষ্ঠ সংগ্রহ করা উভয়ই অসম্ভব হইয় পড়ে। এই সকল ঝটিকার সময় নদীর গতি দুই একস্থলে এমন বিপৰ্য্যস্ত করিয়া দেয় যে, কোন প্রকাও নদী বালুকা-মণ্ডিত হইয়া প্রবাহশূন্ত হয় এবং নিকটবৰ্ত্তী অন্ত একটি ক্ষুদ্র খাল সামান্ত পয়ঃপ্রণালী হইতে প্রবল নদীতে পরিণত হয়। কোনস্থান বসিয়া গিয়া জলমগ্ন হয় এবং অন্ত কোন স্থান কারণবিশেষে দ্রুতবেগে উন্নত হইবার সুযোগ পায়। বটকা ব্যতীত অন্ত কারণেও যে সুন্দরবনের জমি বসিয়া যায়, তাহা জানা গিয়াছে। হঠাৎ কোন সুন্দরবনের অঞ্চল বিশেষ এমন ভাবে ডুবিয়া যায় যে, ঐ প্রদেশে যে সমস্ত লোকের বসতি ছিল বা অট্টালিকাদি নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল, তাছ সমস্তই অধোগত বা জলমগ্ন হইয়া লোকের বাসের অযোগ্য হইয় পড়ে। তখন অধিবাসীরা ঘরবাড়ী ও মমুষ্যের সভ্যতা চিহ্ন ফেলিয়া রাখিয়া, প্রাণ লইয়া স্থানান্তরে iায়। নিম্ন জমিতে জঙ্গল বৃক্ষসমূহ পূর্ণফুৰ্ত্তিতে বাড়ির উঠে ; ইষ্টকর্তৃহ থাকিলে, তাহা জঙ্গলাবৃত হইয়া অমাবস্তী পূর্ণিমার জলপ্লাবন কালে ব্যান্ত্রের আশ্রয়স্থান রূপে পরিণত হয়; এবং ভবিষ্যতে কোন অনুসন্ধিৎসু ভ্রমণকারীরবিক্ষয় উৎপাদন করে। মন্দরবনের এরূপ অল্প বিস্তর উত্থান পতন যখন তখন হইয়া থাকে। কিন্তু