পাতা:যাত্রাবদল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

*8や যাত্রাবদল করেছিল। বেগুণী রংএর ক্রাইসেনথিমামের জন্যে অনেক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছিল, সুবিধে হয় নি । তাছাড়া ও ধরণের মানুষ আমি খুব বেশী দেখিনি, যে একটা খেয়াল বা সথের পেছনে সমস্ত মন প্ৰাণ ঢেলে দিতে পারে । মানুষের মনের শক্তির সে একটা রীড় পরিচয় । হিমাংশু বলতো—সেদিন একটা পাড়াগায়ে একজনদের বাড়ি গিয়েচি, বুঝলেন ? -- তাদের গোলার কাছে তিন বছবের পুরোনো নারকেল গাছ হয়ে আছে। সে যে কি সুন্দর দেখাচ্চে ! একটা প্ৰকাণ্ড তাজা, সতেজ, সবুজ পাম। সমুদ্রের ধারে নাকি নারকেলের বন আছে-পাম এর সৌন্দৰ্য্য দেখতে হোলে সেখানে যেতে হয়। হিমাংশু প্ৰায়ই পাম। আর অৰ্কিড দেখতে শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে যেতো। আব্ব এসে তাদের উচ্ছসিত বর্ণনা করতো। একবার সে একটা এরিকা পাম কিনে আনলে। খুব ছোট নয়, মাঝারী "গোছের মাটীর টবে বসানো-কিন্তু এমন সুন্দর, এমন সতেজ গাছ বাজারে সাধারণতঃ দেখা যায় না। সে সন্ধান করে করে দমদমায কোন বাগানের মালীকে ঘুম দিয়ে সেখান থেকে কেনে। কলকাতার মেসের বারান্দায় গাছ বঁচিয়ে রাখা যে কত শক্ত কাজ, র্যাদের অভিজ্ঞতা আছে তাবা সহজেই বুঝতে পারবেন। গোবি মরুভূমিতে গাছ বাঁচিয়ে রাখা এরচেয়ে সহজ। একবার সে আর আমি দিন কুড়ি বাইশের জন্যে কলকাতার বাইরে যাই, চাকরকে আগাম পয়সা পৰ্য্যন্ত হিমাংশু দিয়ে গেল। গাছে জল দেবার জন্যে, ফিরে এসে দেখা গোল ছ’সাতটা ফ্যান পাম শুকিয়ে পাখা হয়ে গেছে। সকালে বিকালে হিমাংশু বালতি বালতি জল টানতো একতালা থেকে তোতলায় টবে দেবার জন্যে । গাছ বাড়চে না কেন এর কারণ অনুসন্ধান কৰ্ত্তে তার উদ্বেগের অন্ত ছিল না। অন্য সব গাছের চেয়ে কিন্তু ওই এরিকা পাম।