‘ভদ্র’ সম্বোধনে তাহার গূঢ় তিরস্কার অনুভব করিয়া লজ্জিত হইলাম।
হায় দুজ্ঞেয় রমণীর চরিত্র! আমি সুনিতার আদর অনুরাগ অধিক পাইরাছিলাম, যখন সে আমাকে পবিত্রমন্দির-অপবিত্রকারী চোর বলিয়া জানিয়াছিল; আর, আজ আমি তাহার সঙ্গবঞ্চিত স্নেহচ্যুত, কারণ আমি চোর নহি,—বহুলোকের আরাধ্যবস্তু আমার নিজের স্বার্থের জন্য আমি চুরি করি নাই। হায়—
‘স্ত্রিয়াশ্চরিত্রং পুরুষশ্য ভাগ্যং দেবা ন জানন্তি কুতো মনুষ্যাঃ।’
আমার অনুনয়, বিনয় ও কাতরপ্রার্থনা সব ব্যর্থ হইল। পনিষ্ঠার ক্ষুব্ধ চিত্ত আমার অনুনয়ে কোমল আর্দ্র কিছুতেই হইল না। তাহার গৃহে আমার প্রবেশ পর্যন্ত নিষেধ। হায়, কি করিতে এ কী হইল!
আমি ক্ষোভে, দুঃখে, লজ্জায়, বিরহে ক্লিষ্ট হইয়া শয্যাশায়ী হইয়াছি।
বোধ হয় ইহা জ্ঞাত হইয়াই আনন্দনিত্রের কন্যা সুমিতার সখী সুজাতা আমার সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিরা ছিলেন। যে সঙ্গে সুমিতা আমাকে ক্ষমা করিয়া পুনগ্রহণ করিতে পারেন তাহা সুজাতা আমাকে বলিয়া গিয়াছেন।
আমাকে ভগবান্ তথাগতের কোনো চিহ্ন সংগ্রহ করিয়া দিতে হইবে, এবং সে চিহ্ন বৌদ্ধমহাসমিতির দ্বারা অকাট্য প্রমাণে প্রশংসিত করাইতে হইবে। যদি পারি তবেই আমার রক্ষা, নতুবা আমি গেছি।
আমি চিন্তায় মনস্তাপে পাগল হইব বোধ হয়। আপনি কি আমাকে এ বিপদে সাহায্য করিয়া প্রাণদান করিতে পারেন না? আশা করি আপনি দয়া করিয়া চেষ্ট করিবেন। আমিও সিংহলে, চীনে, তিব্বতে ভগবানের কোনও স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহের জন্য যাত্রা করিব। সুমিতাকে প্রসন্ন করিবার জন্য অর্থনাশ ও ক্লেশ আমি গ্রাহ্য করি না। অর্থ ব্যয় ও ক্লেশ সহ্য করিয়াও সুমিতাকে পাইব কি!