বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:যাত্রা-সহচরী - চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৩৭).pdf/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কুড়ুনি

 আমার বয়স যখন ত্রিশ বৎসর তখন আমার একটি বন্ধু লাভ হইয়াছিল, যাহার বয়স তখন চল্লিশ পার হইয়া গিয়াছে। এই বয়স তারতম্যে আমাদের হৃদ্যতার ও আত্মীয়তার কোনো ব্যাঘাত হয় নাই। আমরা বেশ সমবয়সী বাল্যবন্ধুর মতোই উভয়ের কাছে প্রাণের পৃষ্ঠা উন্মুক্ত করিয়া ধরিতে পারিতাম। আমরা উভয়ে উভয়কে কতকটা চিনিলেও উভয় পরিবারের অনেকেই আমাদের অপরিচিত ছিলেন। তাই যখন আমার বন্ধুর বাড়ীতে পৌষ-পার্বণে পিষ্টক ধ্বংসের নিমন্ত্রণ পাইয়াছিলাম, তখন আমার কেমন একটা সঙ্কোচ বোধ হইয়াছিল।

 বন্ধুর পরিবার-সংখ্যা বেশি ছিল না! পুরুষের মধ্যে একমাত্র তিনি, এবং স্ত্রীলোকের সংখ্যা ৪।৫ জনের অধিক নহে। আমি বন্ধুর বাড়ীতে যাইতেই তিনি আমাকে একেবারে বাড়ীর মধ্যে লইয়া গেলেন; সেখানে পাঁচজন স্ত্রীলোক আমার অপেক্ষা করিতেছিলেন। বন্ধু একে একে তাঁহাদের সকলের পরিচয় দিতে লাগিলেন,—“ইনি আমার দিদি, ইনি ভগ্নী; ইনি রসিকা শ্যালিকা, ইনি আমার দণ্ডমুণ্ডের প্রতাপান্বিতা পত্নী শ্রীমতী যোগমায়া ঠাকুরাণী।” তৎপরে পঞ্চমার দিকে ফিরিয়া বলিলেন—“কুডুনি, তোমার কি পরিচয় দিব?”

 কুডুনির শ্বেতশতদলের মতো সরল সুন্দর মুখখানি লাল হইয়া উঠিল,