তিনি মুখ নত করিলেন। ডাগর চোখ দুটি লজ্জা-সংবরণের বৃথা চেষ্টা করিতেছিল।
বন্ধু তখন আমার দিকে ফিরিয়া বলিলেন,—“ইনি শ্রীমতী কুড়ুনি, আমার গৃহের কর্ত্রী, সংসারের সেবিকা, আমার গৃহিণীর দক্ষিণহস্ত এক কথায় ইনি আমাদের কল্যাণী গৃহদেবী।”
সকলে খুব হাসিলেন, আমি কিছু না বুঝিয়াই হাসিলাম, কুড়ুনি লজ্জায় কাতর হইয়া উঠিলেন।
যখন আমরা দুই বন্ধু অন্য ঘরে গেলাম, তখন আমি কৌহতূলাক্রান্ত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম,—“রাজীব (আমার বন্ধুর নাম শ্রীমান্ রাজীবলোচন লাহিড়ী), ঐ কুড়ুনি মেয়েটি বাস্তবিক কে?”
রাজীব বলিলেন,—“তোমায় কি কুড়ুনি-কাহিনী বলি নাই?”
আমি আরো কুতূহলী হইয়া বলিলাম, “না।”
“তবে শোন” বলিয়া রাজীব বলিতে আরম্ভ করিলেন।
“আমার পিতা ও নীলাম্বর রায় বড় ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তাঁহারা প্রতিজ্ঞা করিয়াছিলেন যে উভয়ে বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করিয়া উভয় পরিবারকে বন্ধুপ্রীতিবন্ধনের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠতর বন্ধনে আবদ্ধ করিবেন। আমাদের বারেন্দ্র শ্রেণীর ব্রাহ্মণের মধ্যে গর্ভস্থ ভ্রূণের ভবিষ্যৎ বিবাহ-সম্বন্ধ স্থির হইয়া থাকে; কিন্তু আমার পিতার ও পিতৃবন্ধুর কোনও সন্তানসম্ভাবনার পূর্বেই তাঁহারা বৈবাহিক হইয়া বসিয়াছিলেন। যাহা বিলম্ব সন্তানের। কিছুদিন পরে আমার জন্ম হয়; আমি পিতার জ্যেষ্ঠ পুত্র, নীলাম্বর-বাবু তখনো নিঃসন্তান। অতএব ভাবীকালে আমিই নীলাম্বর-বাবুর জামাতৃপদে বৃত হইব স্থির হইয়া রহিল।
“নীলাম্বর-বাবুর ক্রমাগত পুত্র জন্মিতে লাগিল, কন্যা আর হয় না। তখন অগত্যা আমার ভগ্নী নীলাম্বর-বাবুর পুত্রবধূরূপে চিহ্নিত হইল,