বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:যাত্রা-সহচরী - চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৩৭).pdf/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
যাত্রা-সহচরী
১০৫

বৎসর যে বেদনা কাহাকেও জানিতে দি নাই, আজ তুমি তাহা জানিয়া ফেলিলে!”

 রাজীবের রুদ্ধশোক মুক্ত হইয়া উদ্দাম হইয়া উঠিল, আর শান্ত হইতে চাহে না।

 আমি রাজীবকে কথার ব্যাপৃত রাখিবার জন্য জিজ্ঞাসা করিলাম, “তোমার স্ত্রী এ বৃত্তান্ত জানেন?”

 রাজীব বলিল, “না; তুমি আমি ও ভগবান্ ছাড়া আর কেহ আজও জানে নাই!”

 আমি বিস্মিত হইয়া বলিলাম, “কুড়ুনিও না?”

 রাজীব বলিল, “না; দৃষ্টি, বাক্য ও ব্যবহারে আমার প্রাণের আবেগ কখনো তাহার নিকট ধরা পড়িতে দি নাই; কেন সে আমার জন্য অনর্থক কষ্ট পাইবে? তাহার প্রাণটুকু সংসারের সুখদুঃখের আয়ত্তের বাহিরে, তাহার সুখও নাই, দুঃখও নাই; সে আপনাকে লইয়া আপনি বেশ আছে।”

 আমি বলিলাম—“অ। মূর্খ অজ্ঞ প্রেমিক! না, সে বেশ নাই; সেও তোমাকে খুব ভালোবাসে; তুমি যখন তাহাকে বিবাহ করিতে বলিয়াছিলে, তখন সে যে গূঢ় তিরস্কার করিয়াছিল তাহাই তাহার ত্বন্নিষ্ঠ প্রেমের পরিচায়ক, তুমি প্রেমান্ধ না হইলে বুঝিতে পারিতে সে তোমাকে ছাড়া আর কাহাকেও চাহে না। দুটি হৃদয় এত কাছাকাছি হইয়াও এমন আশ্চর্য রকমে অপরিচিত আছে, এমন ভাবে আত্মগোপন করিতে পারিয়াছে, ইহা মনে করিতে আমার হৃদয় আনন্দরসাপ্লুত হইয়া উঠিতেছে। আমি আজ দুটি হৃদয়ের পরিচয়সাধন করিয়া দিয়া ধন্য হইব।”

 “না, না, অমন কাজ করিয়ো না,” বলিয়া রাজীব কাঁদিয়া আকুল হইল; দুই হাতে মুখ ঢাকিয়া ক্রন্দনাবেগ রোধ করিবার চেষ্টা করিতে