জীবন-নাট্য
পাকা আমের সময়। সে তখন বালক মাত্র। গিয়াছিল সে মামার বাড়ী বেড়াইতে। বাগানে আম কুড়াইতে গিয়া পাড়ার একটি মেয়ের সঙ্গে দেখা। মেয়েটিও বালিকা। তাহাকে দেখিয়াই বালকের চিত্ত যেন বলিয়া উঠিল—এই এই, একেই আমি খুঁজিতেছিলাম, একেই আমি চাঁই।
কিন্তু সে বালক কিনা, মেয়েটিকে মুখ ফুটিয়া কিছু বলিতে পারিল না। শুধু অবাক্ হইয়া তাহার দিকে চাহিয়া রহিল, মেয়েটি বালকটির রকম দেখিয়া একটু শুধু হাসিল।
এবার এই পর্যন্ত। বালক মামার বাড়ী হইতে চলিয়া গেল, কিন্তু সেই একদিনের-দেখা মেয়েটির সেই হাসিটুকু সে ভুলিল না।
আবার যখন সে মামার বাড়ীতে ফিরিল, তখন সে কলেজের ছেলে। তবু তখনো বালক। এবারও সেই মেয়েটির সঙ্গে পুকুর-ঘাটে দেখা। তার বয়স এখন চৌদ্দ বছর। কিন্তু তখনি তার বুকখানি মাতৃত্বের জন্য উন্মুখ হইয়া উঠিয়াছিল। মেয়েটির আগেকার সেই চঞ্চল গতি মন্থর, ও স্থির দৃষ্টি বিচঞ্চল হইয়া উঠিয়াছে—সমস্ত দেহে একটি লাবণ্যময় লীলা পারদরাশির মতো টলটল করিতেছিল।;
সে এবার আরো অবাক্ হইয়া মেয়েটিকে দেখিতে লাগিল; এবারও মেয়েটি তাহার রকম দেখিয়া হাসিল, কিন্তু তেমন সহজভাবে মুখের দিকে