বছর ফিরিতে না ফিরিতে নববধূর সন্তান হইল। বুড়ো বয়সে একেই ঘুম কম হয়, তাহাতে আবার শিশুর কান্নায় বুড়োর ভারি ঘুমের ব্যাঘাত হইতে লাগিল। এ বয়সে কি এসব ঝঞ্ঝাট ভালো লাগে? বুড়ো পৃথক্ ঘরে শয্যা রচনা করিল।
বধূ ইহাতে নারীভাগ্যকে ধিক্কার দিয়া কাঁদিল; রমণীর জীবন কী দুঃখদুর্ভর! বছরখানেক আগে বুড়ো তাহার কানে যেসব সৃষ্টিছাড়া মনভুলানো কথা বলিয়াছিল এখন তাহার আগাগোড়া মিথ্যা প্রবঞ্চনা বলিয়া মনে হইতে লাগিল। তখন তাহার মনে তাহার ভাগ্যবতী সতীনের উপর হিংসা জাগিতে লাগিল। এটা যেন সম্পূর্ণ তার সতীনেরই দোষ যে, সে আগে জুটিয়া তার স্বামীর সকল মাধুর্য সকল সোহাগ নিঃশেষে উপভোগ - করিয়া তবে মারিয়াছে এবং তাহার জন্য রাখিয়া গেছে শুধু অনাদর আর উপেক্ষা। সে মনে করিতে লাগিল তাহাকে বিবাহ করা সে কেবল তাহার সতীনের শূন্য স্থান পূর্ণ করিবার জন্য, তাহার যতটুকু আদর সে সতীনেরই স্মৃতির উদ্দেশে। তাহার নিজের কিছু নাই, মনে করিয়া সে ক্ষুণ্ণ ক্ষুব্ধ হইয়া উঠিল।
এখন সে স্বামীর মনোহরণের জন্য বিশেষ যত্ন করিয়া যে-সব বিলাসকলা প্রণয়লীলার অনুষ্ঠান করিতে শুরু করিল তাহা বুড়োর কাছে বড় বাড়াবাড়ি ও ন্যাকামি বলিয়া ঠেকিতে লাগিল। বুড়ো মনে মনে বিরক্ত হইয়া উঠিল। এখন কথায় কথায় বুড়োর মনে তুলনায় সমালোচনা জাগে—মনে হয় আগেরটি যেমন সরল সোহাগী ছিল এটি তেমন নয়, মেজাজটা চটা, ঢংটা পাকামি, ব্যবহারটা অসঙ্গত। তখন বুড়োর মনে তার পূর্ব পক্ষের ছেলেমেয়েগুলির প্রতি মমতা ফিরিয়া আসিল। গৃহ তার অতিরিক্ত অস্বস্তিকর মনে হইতে লাগিল। তার বুড়ো বয়সের কাণ্ডখানা আগাগোড়া মূর্খতারই নামান্তর বলিয়া প্রতিভাত